খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৪ ২২:০৫ পিএম
নিরাপত্তাজনিত কারণে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় এবার কঠিন চীবর দান উদযাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত ভিক্ষু সংঘ। রবিবার (৬ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা শহরের মৈত্রী বৌদ্ধবিহারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলার ১৫টি বৌদ্ধভিক্ষু সংঘের এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রদ্ধালংকার মহাথের লিখিত বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ওপর এভাবে বিনা বাধায় সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পবিত্র বৌদ্ধবিহারে আক্রমণ ও বুদ্ধমূর্তি ভেঙে ফেলার এটাই প্রথম ঘটনা নয়। এ ধরনের ঘটনা বারবার সংঘটিত হয়ে আসছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় সহিংস ঘটনা সংঘটিত হয়। তারা জানমাল রক্ষার পরিবর্তে পাহাড়িদের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ির ওপর হামলা চালাতে সহযোগিতা করে অথবা নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করাও অভিযোগ রয়েছে। গত ১৮-২০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় শতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চারজন ব্যক্তি নিহত হন। হামলায় বিভিন্ন মন্দির, বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর ও দানবাক্স লুট করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের প্রতি কোনো আস্থা না থাকার পাশাপাশি বৌদ্ধ সমাজ ও ভিক্ষুসংঘ উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। এমন অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সমাজ ও ভিক্ষু সংঘ আসন্ন পবিত্র কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে কোনো উৎসাহ বোধ করছে না। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দায়ক-দায়িকা ও ভিক্ষু সংঘের মধ্যে আলোচনাক্রমে চলতি বছরে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান না করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বনভান্তে শিষ্য সংঘের সহসভাপতি সৌরজগৎ মহাথের, পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদ বান্দরবানের সাধারণ সম্পাদক তেজপ্রিয় মহাথের, কাপ্তাই চিৎমরম রাজনিকায় মার্গের সহসভাপতি জ্ঞানবংশ মহাথের, ত্রিরত্ন ভিক্ষু অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আগ্গাশ্রী মহাথের, খাগড়াছড়ি শাসনা ভিক্ষু সংঘের সভাপতি সুমনা মহাথের, বৌদ্ধ শাসনা ভিক্ষু কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সুরিয়েন্টা মহাথের, খাগড়াছড়ি ভিক্ষু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আগাসার থের প্রমুখ।