গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:২৩ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:২৮ পিএম
প্রতীকী ছবি
গাজীপুর মহানগরীর বাইমাইল নয়াপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর, স্বামী তার স্ত্রীর উড়না গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
কোনাবাড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাইম উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন-গাজীপুর মহানগরীর বাইমাইল নয়াপাড়া এলাকার সোহাগ মিয়ার মেয়ে পারভীন আক্তার ও তার স্বামী জালাল মিয়া। তারা স্বামী- স্ত্রী মিলে একই এলাকায় ভাংগারী মালামালের ব্যবসা করতেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গাজীপুর মহানগরীর নয়াপাড়া এলাকায় জালাল উদ্দিন কয়েক বছর আগে একই এলাকার পারভীন আক্তারকে বিয়ে করেন। পারভীনের এর আগেও একটি বিয়ে হয়েছিল। শ্বশুর বাড়িতে থেকে জালাল উদ্দিন স্থানীয় ভাবে ভাংগারী মালামালের ব্যবসা করতেন। তার ব্যবসায় সহাযোগিতা করতেন তার স্ত্রী পারভীন আক্তার। বেশ কিছুদিন ধরেই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া বিবাদ চলছিল। গত শনিবার রাতে দুইজন বকাঝকা করে ঘুমিয়ে পড়ে। রবিবার অনেক বেলা হয়ে গেলেও তারা ঘরের দরজা না খোলায় বাড়ির অন্য সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে ঘরের দরজার ফাঁকা দিয়ে জালাল উদ্দিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে তারা ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে দেখেন পারভীন আক্তারের মরদেহ বিছানার উপর পড়ে আছে। খবর পেয়ে কোনাবাড়ি থানা পুলিশ দুপুরে নিহত দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে জালাল উদ্দিন তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনও উপায়ে হত্যা করে নিজে তার স্ত্রীর উড়না গলায় পেঁছিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। তবে ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে।
নিহতের ছেলে মো. রাব্বি হোসেন বলেন, গত এক বছর আগে আমার মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে হয় জালাল মিয়ার সঙ্গে। তারা উভয়ে বাইমাইল নয়াপাড়া এলাকায় আমার নানার বাসায় থাকতেন। তিনি কাপাসিয়া উপজেলায় বাসা ভাড়া থেকে রিকসা চালান। তাদের মধ্যে প্রায় নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া বিবাদ হত বলে জানতে পেরেছি। এখন যেটা মনে হচ্ছে জালাল আমার মাকে হত্যা করে তিনিও আত্মহত্যা করেছেন।
এসআই তাইম উদ্দিন বলেন, নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।