ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪ ২০:১৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিলে ডিজিটাল কারচুপিতে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ভুতুড়ে বিল এবং ঘন ঘন লোডশেডিং এই দুইয়ে মিলে গ্রাহকদের ভোগান্তির শেষ নেই। প্রতি মাসে কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল। আর বিল বেশি হওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার পাচ্ছে না গ্রাহকরা। অতিরিক্ত নয়, ব্যবহার বাড়ায় বিল বেশি হচ্ছে বলে দাবি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের।
জানা গেছে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎ না থাকলেও ডিজিটাল কারচুপিতে ঠিকই বাড়ছে বিল। কোনো মাসে ১০০ টাকা, পরের মাসে ১৫০ টাকা এবং তার পরের মাসে হঠাৎ করেই বেড়ে যাচ্ছে হাজার টাকা। এভাবেই বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি ভুতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ গ্রাহকরা। কেউ কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে পুরোনো দিনের সেই বাতির কথাও চিন্তা করছে।
মুরাদ হোসেন নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘জুন মাসের বিল ৬১০ টাকা, জুলাই মাসে ৮০৬ টাকা, আগস্ট মাসে বিল আসছে ১০০১ টাকা এবং সেপ্টেম্বর মাসে বিল এসেছে ৫ হাজার ২০০ টাকা।’
মুরাদ হোসেনের মতো আরও অনেকের এভাবেই ভুতুড়ে বিল এসে জমা হচ্ছে। এসব নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে নয়-ছয় বোঝানো হচ্ছে। মিটার না দেখে মনগড়া বিল তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডিজিটাল কারচুপি করে বিল বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করছে। নিম্নমানের মিটার থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও বিল বাড়ে। বারবার অফিসে গিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করেও কোনো সমাধান পাচ্ছে না গ্রাহকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। বিদ্যুৎ বিল আর লোডশেডিং মিলে এক অরাজকতা চলছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর ধোবাউড়া সাব-জোনাল অফিসে। এতে জনগণের টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে কিন্তু এসব দেখার যেন কেউ নেই। এমনই অভিযোগ গ্রাহকদের।
সম্প্রতি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ ধোবাউড়া সাব-জোনাল অফিসে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক বিল বাড়ানোর অভিযোগ নিয়ে অফিসে যাচ্ছে। অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের মতো করে গ্রাহকদের বোঝাচ্ছেন। এতে বুঝলে ভালো, না বুঝলে তাদের কিছু করার নেই বলে বিদায় করে দিচ্ছেন। এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিন গ্রাহকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গ্রাহকদের অভিযোগ, মনগড়া বিল করে সাধারণ গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা নিয়ে যাচ্ছে।
ধোবাউড়া সাব-জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘মনগড়া বিল করার কারণে আমরা দুয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। অতিরিক্তি বিল হলে মিটার পরিবর্তন করে দেব। তবে অতিরিক্ত বিল নয়, ব্যবহার বাড়ায় বিল বেশি হচ্ছে।’
সাধারণ গ্রাহকরা জানায়, যেখানে আগে বিল আসত ৫০০ টাকা আর এখন সেখানে বিল আসে ৩ হাজার টাকা। মিটার পরিবর্তন করতে হলে ৩ হাজার টাকা দিয়ে পরিবর্তন করতে হবে। ভোগান্তির আর শেষ নেই।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে অতিরিক্ত বিল আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘