শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:১৮ পিএম
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দুই দিনের টানা বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি ও নালিতাবাড়ীর ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েক স্থানে ভেঙে গেছে নদীর বাঁধ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।
শুক্রবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর তথ্য মতে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৭২ সেন্টিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৫৬ সেন্টিমিটার এবং চেল্লাখালী নদী বিপদসীমার ৫২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করেছে ঝিনাইগাতী উপজেলা শহরে। এতে প্রধান সড়ক, বাজারের অলিগলি ও অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে। আকস্মিক ঢলের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতভর বৃষ্টিতে প্লাবিত হয় নিম্নাঞ্চলের প্রায় অর্ধ-শতাধিক গ্রাম। এখনও বৃষ্টি চলমান থাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।
স্থানীয়রা জানায়, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর দুই পাড়ের কয়েকটি স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
অপরদিকে শ্রীবরদীর সীমান্তবর্তী ভারত থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে পানিতে ডুবে গেছে শত শত পুকুর, সবজি ও ধানের ক্ষেত। বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে চরম বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। তবে এখনও প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কোনো সহায়তা তারা পায়নি বলে জানায় বন্যাদুর্গত এলাকার পানিবন্দি বাসিন্দারা।
ঝিনাইগাতীর পৌর শহরের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগে এরকম পানি কখনও দেখি নাই। আমাদের বাড়ি ঘরে পানি। রান্না করতে পারছিনা। রাস্তায় পানি ওঠায় চলাচলও করতে পারছিনা। খুব কষ্টে আছি।’
ঝিনাইগাতী বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের দোকানে পানি ওঠেছে। অনেক ব্যবসায়ীরই ক্ষতি হয়েছে। প্রতি বছরই নদীর বাঁধ ভেঙে আমাদের ক্ষতি হয়। কেউ এদিকে দেখে না। নদীর স্থায়ী বাঁধ চাই আমরা।’
কৃষক ধানেশ মিয়া বলেন, ‘আমাদের সব ফসল পানির নিচে। এই ধান এহন খাইয়া গেলেগা আমরা বাচমু কেমনে।’
ঝিনাইগাতী উপজেলার কৃষি অফিসার হুমায়ুন দিলদার জানান, এ বছর ঝিনাইগাতীতে সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমি সম্পূর্ণ ও সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমির আমন ধানের আবাদ আংশিক নিমজ্জিত রয়েছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে ফসলের অনেক ক্ষতি হবে।’