× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ড্রাগনের ক্ষতি

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:১৩ পিএম

ক্ষতিগ্রস্ত ড্রাগনের বাগানে হেলাল উদ্দিন। প্রবা ফটো

ক্ষতিগ্রস্ত ড্রাগনের বাগানে হেলাল উদ্দিন। প্রবা ফটো

ইচ্ছা ছিল এলাকায় ব্যতিক্রমী কিছু চাষ করার, যা আগে কখনও এই এলাকার কৃষকরা করেনি। সেই ব্যতিক্রম চাষের নেশা থেকেই ড্রাগন ফল চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার টামনি ইসলামপুর এলাকায় হেলাল উদ্দিন। গত দুই বছর ধরে লাভের মুখও দেখছিলেন হেলাল উদ্দিন। তবে এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ড্রাগনের বাগান নষ্ট হওয়ায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে হেলাল উদ্দিনের। ফল ধরা অবস্থায় আড়াই একর জমিতে দুই হাজার ড্রাগনগাছের গোড়া পচে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

হেলাল উদ্দিন জানান, গত তিন বছর ধরে বাগানটি তিল-তিল করে গড়ে তুলেছিলেন। বাগানে ৬ প্রজাতির ড্রাগন ফল, ২৬ প্রজাতির দেশি-বিদেশি আম, তিন প্রজাতির মাল্টা, দুই প্রজাতির কমলা, খেজুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফল গাছের চাষ করেছেন। তার এই সাফল্যে জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ দেখতে আসে। অনেকেই ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর তাদের মিশ্র বাগান থেকে খরচ বাদ দিয়ে ১০ লক্ষাধিক টাকা আয় হতো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কৃষকের পক্ষে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে উপজেলা কৃষি অফিসে বাগানটির তথ্য প্রেরণ করেছি। কোনো বরাদ্দ এলে তাদের দেওয়ার চেষ্টা করব।

হেলাল উদ্দিন বলেন, ড্রাগন চাষ সময় সাপেক্ষ। তারপরও সবকিছু বুঝে তিন বছর ধরে আড়াই একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করি। প্রথম বছরে বাগান প্রস্তুত করতে সিমেন্টের খুঁটি, ড্রাগন চারা, তারকাঁটার বেড়া, সার ও অন্যান্য খরচসহ বিঘাপ্রতি ছয় লাখ টাকা করে খরচ হয়েছিল। দ্বিতীয় বছর সার, কীটনাশক ওষুধ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচসহ দুই লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। প্রথম বছর থেকে ভালোই ফল এসেছিল। প্রায় ছয় লাখ টাকার বেশি ড্রাগন বিক্রি করেছি। 

তিনি বলেন, এবার বিঘাপ্রতি সাত লাখ টাকা বিক্রির টার্গেট ছিল। কিন্তু হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে তার। এখন আর গাছে ফল আসবে না। আবার নতুন করে পরিচর্যা করে আগামী মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এখন সরকারের স্বল্প সুদে ঋণ ও আর্থিক প্রণোদনা পেলে স্বাভাবিকভাবে আবারও চাষ করতে পারব।

ড্রাগনচাষি হেলাল উদ্দিনের সফলতা দেখে অনেক চাষি এ ফল চাষে আগ্রহী হয়েছে। গভীর সম্ভাবনা দেখে শৌখিন চাষিদের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে বাণিজ্যিকভাবে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে উপজেলার অনেক চাষি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ড্রাগন বিদেশি ফল। বাণিজ্যিকভাবে বাগান করে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক কৃষক এ ফলটি আবাদ করছে। তবে ড্রাগনচাষি হেলাল উদ্দিনের বাগানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটি তার পক্ষে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। উপজেলা কৃষি অফিসে বাগানটির তথ্য প্রেরণ করেছি। কোনো বরাদ্দ কিংবা সুযোগ-সুবিধা এলে দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা