নেত্রকোণা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:১০ পিএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:১৪ পিএম
টিসিবির নানা পণ্যসহ নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার এক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, এসব পণ্য এক ডিলারের প্রতিনিধির কাছ থেকে জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাড়লা গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এসময় তার ঘর থেকে টিসিবির ৭২ লিটার তেল, ১৮০ কেজি চাল ও ৭০ কেজি ডাল জব্দ করা হয়।
আটক বিএনপি নেতার নাম আবুল হাসেম ভূইয়া। তিনি উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেন, আটক বিএনপি নেতা আবুল হাসেম ভূইয়াকে আমাদের থানা হেফাজতে রেখে গেছে সেনাবাহিনী। তার ঘর থেকে টিসিবির চাল-ডাল ও তেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের মিয়া হোসেন মার্কেট এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে আসেন মেসার্স আয়েশ ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপি নেতারা ওই প্রতিনিধির কাছ থেকে টিসিবির মালামাল নিয়ে যায়। পরে অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে বিএনপি নেতা আবুল হাসেম ভূইয়াকে আটকসহ তার বাড়ি থেকে টিসিবির মালামাল উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
এ বিষয়ে টিসিবির ডিলার মেসার্স আয়েশ ট্রেডার্সের মালিকের মোবাইলে ফোন করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার ওই ডিলারের প্রতিনিধির বরাত দিয়ে বলেন, ‘মেসার্স আয়েশ ট্রেডার্সের মালিককে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তার এক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বুধবার ওই এলাকায় টিবিসির পণ্য বিতরণ করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার কাছ থেকে মালামাল কেড়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি তিনি আমাদেরকেও অবহিত করেননি। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীকে নিয়ে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব।’
এ ব্যাপারে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘টিসিবির পণ্যসহ পাইকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেনাবাহিনীর কাছে আটক হওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। এখনও বিস্তারিত খোঁজ নিতে পারিনি। তবে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ যেকোনো ধরনের অন্যায় না করতে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে কড়া নির্দেশনা রয়েছে। আমরা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে বারবার কেন্দ্রীয় নির্দেশনাগুলে পৌঁছে দিচ্ছি। এরপরও যদি কাউকে এসব কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’