নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৩২ পিএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৪০ পিএম
নওগাঁ সদর উপজেলার
হাসাইগাড়ী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে প্রায় এক মাস ধরে ৯টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে
রেখেছে স্থানীয় হাসান মল্লিকসহ প্রভাবশালী কিছু মাতব্বরেরা। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ
দিয়েও পরিবারগুলো কোনো প্রতিকার পায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা
যায়, রাস্তার ধারে লাউ-কুমড়ার গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাগলকে মারধর করায় শুরু
হয় ঘটনার সূত্রপাত। বেলাল মল্লিকের লাউ কুমড়ার গাছ খাওয়ায় মারধর করে বেলাল
মল্লিক। তাতে ছাগলের একটি পা জখম হয়। ছাগলের মালিক হাসান মল্লিক ক্ষিপ্ত হয়ে
বেলাল মল্লিককে মারধর করে। পরে স্থানীয় কিছু কুচক্রী মাতব্বরের পরামর্শে বেলাল মল্লিক
ও তার পার্শ্ববর্তী আত্মীয়-স্বজনসহ ৯ পরিবারের বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তার তিনদিকে
বেড়া দেন।
বেলাল মল্লিক নিরুপায়
হয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ করেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিদর্শন করলেও
কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই চলে যায়। এতে হাসান মল্লিক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরের
দিন রাতে হাসান মল্লিকসহ জব্বার, দুলাল এবং তাদের পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়ে বেলাল
মল্লিকের ওপর হামলা করেন। তার গোপনাঙ্গে আঘাত করে পানির মধ্যে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে
ফেলার চেষ্টা করে। পরে ডাক-চিৎকার দিয়ে দৌড়ে পিন্টুর বাড়ির সামনে এসে পড়ে যায়। পরিবারের
সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
বেলাল মল্লিক বলেন,
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আমাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। গত এক মাস যাবৎ আমরা
অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ
করেনি। বর্তমানে তারা চাঁদা দাবি করছে। চাঁদার টাকা না দিলে, এইবার আর বেঁচে থাকার
সুযোগও দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। তাই আমরা বাড়িও যেতে পারছি না। আমরা প্রশাসনের কাছে
আইনগত সহযোগিতা চাই।
অভিযোগের বিষয়ে
জানতে চাউলে হাসান মল্লিক বলেন, মাতব্বরের হুকুমে আমরা বেড়া দিয়েছি। তাদের অনুমতি ছাড়া
বেড়া কখনোই সরাব না। তা ছাড়া আমার ছাগলের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
স্থানীয় মাতব্বর
আক্কাস আলী বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা
সম্ভব ছিল। তবে বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করার বিষয়ে আমরা কোনো অনুমতি দিইনি।
নওগাঁর ভীমপুর পুলিশ
তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক জামাল উদ্দীন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম,
বেড়া সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। বেড়া সরিয়ে নেওয়া হয়নি তা জানা নেই। পরবর্তীতে কেউ এ বিষয়ে
কিছু জানায়নি।