অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৪ ০৯:২২ এএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৪ ২৩:১১ পিএম
রাঙামাটির কাপ্তাই অঞ্চলের সবুজ পাহাড়গুলোয় এখন পাকা ধানের সমারোহ। প্রবা ফটো
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী চাষ পদ্ধতি ‘জুম’। প্রাচীনকাল থেকে অদ্যাবধি পাহাড়ের প্রান্তিক জুমিয়ারা ঐতিহ্যগতভাবেই এই জুমচাষ করে আসছে। জুমচাষের মাধ্যমে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ জীবনধারণ করে। প্রতি বছরই জুমচাষ করে থাকে জুমিয়ারা।
প্রতিবারের মতো এবারও জুমচাষিরা পাহাড়ে ধান, ভুট্টা, কাকন, হলুদ, মারফাসহ বিচিত্র রকমের ফসল চাষ করেছে। তবে কিছু ফসল সারা বছর ধরে উত্তোলন হলেও বর্তমানে পাহাড়ে ধান তোলার মৌসুম চলে এসেছে। ফলে রাঙামাটির কাপ্তাই অঞ্চলের সবুজ পাহাড়গুলো জুমচাষের সোনালি ধানে ভরে উঠেছে। যেদিকে চোখ যায় শুধু পাকা ধানের সমারোহ। পাকা ধানের মিষ্টি গন্ধে ম ম চারদিক। অনেক জায়গায় শুরু হয়েছে ধানকাটা উৎসব।
রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলাধীন বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে হয়ে থাকে জুমচাষ। সম্প্রতি উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়ন সংলগ্ন সীতাপাহাড় ও রামপাহাড়ের কিছু অংশে গিয়ে দেখা গেছে, পাহাড় ঘিরে জুমচাষের সমারোহ। যেখানে সবুজ পাহাড়জুড়ে পাকা ধানের সোনালি রঙে ছেয়ে গেছে। এ ছাড়া পাকা ধানের একটি মিষ্টি গন্ধে ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশ।
স্থানীয় জুমচাষি সাইনুচিং মারমা, হ্লালাচিং মারমাসহ একাধিক চাষি জানায়, বংশপরম্পরায় তারা পাহাড়ে জুম চাষ করে থাকে। জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল তাদের পরিবার। জুমচাষের ফসলই তাদের বছরের খোরাকি। সারা বছরের কষ্টের জুমচাষের ফলন এখন ঘরে তোলার সময়।
তবে গত বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাত কিছুটা বেশি হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় জুমিয়ারা। এবারের ফলন ভালো হলেও নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে পাহাড়ের জুমচাষে। জুমিয়ারা জানায়, পাহাড়ের মাটির উর্বরতার কারণে আগে তেমন কোনো ধরনের সার ব্যবহার করা না করলেও চলত। কিন্তু এখন জুমে সার দিতে হয়। কেননা দিন দিন পাহাড়ের মাটির উর্বরতা কমে আসছে।
কাপ্তাই উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে জুমচাষ হয়ে থাকে। যেখানে ধানের পাশাপাশি আদা, হলুদ, মারফা, মরিচ, কচু, মিষ্টিকুমড়া, ভুট্টাসহ বিভিন্ন জাতের ফসলের চাষ করা হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইমরান আহমেদ বলেন, কাপ্তাই কৃষি বিভাগ থেকে জুমচাষিদের ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন মিশ্র ফল, ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়ে থাকে। তবে জুমচাষিরা স্থানীয় জাতের ধানের চাষ করলেও কৃষি বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উচ্চ ফলনশীল ধানের ব্রি-ধান-৮৭ জাতের ধানের চারা রোপণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, কাপ্তাইয়ের বেশ কিছু এলাকার পাহাড়ে ভালো জুমচাষ হলেও চিৎমরম ইউনিয়ন এবং ব্যাঙছড়ি, সীতাপাহাড় এলাকার পাহাড়গুলোতে ভালো জুমচাষ হয়ে থাকে।