বাইপাইলে অবরোধ
সাভার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৪ ২০:০০ পিএম
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৪ ২০:২০ পিএম
নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল থানা রোড এলাকায় অবরোধ করেন বার্ডস গ্রুপের শ্রমিকরা। প্রবা ফটো
টানা ৩৩ ঘণ্টা ধরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বার্ডস গ্রুপের শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় শুরু হওয়া অবরোধ মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান। দীর্ঘ সময় যানচলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা। তবে সমস্যার সমাধানের জন্য কোনো পক্ষের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাইপাইল থানা রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায় শ্রমিকদের অবরোধ চলমান। দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ করায় বেড়েছে যানবাহনের সারি। দূরপাল্লার অনেক যাত্রীকে দেখা গেছে পায়ে হেটে চলাচল করতে। এছাড়া অনেক যানবাহন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট এক নোটিশের মাধ্যমে বার্ডস গ্রুপ লে-অফ ঘোষণা করে। এই নোটিশে লেখা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বেশ কিছুদিন যাবৎ কারখানাতে কোনো প্রকার কাজ নেই। এর পরেও কারখানা কর্তৃপক্ষ অব্যাহতভাবে আর্থিক লোকসানের মধ্য দিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছিল। শত চেষ্টা করেও নতুন কোনও কাজের অর্ডার সংগ্রহ করতে পারেনি, যা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত। এমতাবস্থায় গত ২৮ আগস্ট থেকে গ্রুপটির আর এন আর ফ্যাশনস লি., বার্ডস গার্মেন্টস লি., বার্ডস ফেডরেক্স লি. এবং বার্ডস অ্যান্ড জেড লি. এর সকল সেকশনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিকরা বলেন, ২৭ তারিখের ইস্যু করা নোটিশের মাধ্যমে গত ২৮ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার বার্ডস গ্রুপের সকল কারখানা লে-অফ ঘোষণা করা হয়। এসময় শ্রমিক কর্মচারীদের আগস্ট মাসের বেতন সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখ ও সার্ভিস বেনিফিটসহ ক্ষতিপূরণ ৩০ সেপ্টেম্বর পরিশোধের দিন ধার্য করা হয়। চুক্তিমতো শ্রমিকদের বেতনের টাকা পরিশোধ করলেও ৩০ সেপ্টেম্বর সার্ভিস বেনিফিটসহ ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের আরও তিন মাস সময় চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত টাকা পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এদিকে শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ না করলেও শ্রমিক নেতাদের প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা উৎকোচ হিসাবে প্রদান করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিকনেতা বলেন, শ্রমিকদের নির্ধারিত পাওনাদি পরিশোধের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ধার্য করা ছিল। এই তারিখ পিছিয়ে আরও তিন মাস সময় চান কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের বুঝিয়ে এই তিনমাস সময় নিয়ে দিতে শ্রমিক নেতারা ২০ লাখ টাকা দাবি করেন কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে। পরে ১২ লাখ টাকায় দফা রফা হয়। গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর ৪ শ্রমিক নেতা কারখানার আইনজীবী 'আমেনার' সাথে মিটিং করেন। পরে বার্ডস গ্রুপের পক্ষ থেকে তিন মাস সময় চেয়ে একটি নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের খবর শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
কারখানাটির শ্রমিক শামীম বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওনা পরিশোধের কথা বলে আরও তিন মাস সময় নিয়েছে। প্রোডাকশন নেওয়ার সময় হিসেব করে নেয়। বেতনের সময় কেন সমস্যা হবে। আমাদের পরিবার রয়েছে। না খেয়ে কাল থেকে নারী পুরুষ সড়কে রয়েছি। কেউ আমাদের দেখতে আসেনি। সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে শিল্প পুলিশ-১ পুলিশ সুপার সারোয়ার আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।