সাভার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:১৭ পিএম
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:১৫ পিএম
গ্রেপ্তারকৃতরা। প্রবা ফটো
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর উপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, মারপিট, কারখানায় অনুপ্রবেশ করে লুটপাট, সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে শিল্পপুলিশ। অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) এ ঘটনায় শিল্পপুলিশ-১ উপ পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১ হাজার ২০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিদের ঢাকার আদালতে পাঠান আশুলিয়া থানা পুলিশ।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গতকাল সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় মণ্ডল নীটওয়্যার গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে কর্তৃপক্ষের সাথে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে আলোচনায় বসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এসময় শ্রমিকরা ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ দুই শ্রমিককে গুম ও দুইজনকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে গুজব ছড়ায়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী এলাকার ন্যাচারাল ডেনিমস ও ন্যাচারাল ইন্ডিগো লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা অযৌক্তিক বিভিন্ন দাবিতে ফ্যাক্টরিতে কাজ বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করে। এক পর্যায়ে অসন্তোষের কারণে কর্তৃপক্ষ এই দুটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করলে সব শ্রমিক একযোগে বের হয়ে আসেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ম্যাঙ্গোটেক্স কারখানার উশৃঙ্খল শ্রমিকরা বহিরাগতদের নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে টঙ্গাবাড়ি এলাকায় মন্ডল গার্মেন্টসের সামনে অবস্থান নেয়। পরে তারা মন্ডল গার্মেন্টসের ভিতরে শ্রমিকদের যৌথ বাহিনী আটকে রেখেছে বলে গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, এসময় যৌথ বাহিনীর উপস্থিত কর্মকর্তারা বারবার তাদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে।তাদের আবারও বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলে উশৃঙ্খল শ্রমিক ও বহিরাগতরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোটা ও রডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা চালায়। এসময় শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম ও র্যাব-৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামানসহ ১০-১২জন যৌথ বাহিনীর সদস্য গুরুতর আহত হন। এসময় সেনাবাহিনীর পাঁচটি, র্যাবের দুটি ও শিল্প পুলিশের একটিসহ ৮ টি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত ১ হাজার ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। একজন পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। এঘটনায় ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে যা চলছে এগুলো আমরা তদন্তের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। কেন পুলিশ আবার গুলি চালাচ্ছে, কেন শ্রমিক মারা গেছে তার সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
আসামিরা হলেন- কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার বকিরা মধুপুর গ্রামের মো. মামুনুর রশিদ ছেলে মো. সাফওয়ান, জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার চরমোহাম্মদ গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার ধলই গ্রামের মহিন উদ্দিনের ছেলে মো. মিনাজুল আরেফিন। অন্যরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার মো. মাসুদ রানা, সাতক্ষীরার অশোক কুমার সিংহ, কুষ্টিয়ার মো. অপু, বরিশালের মো. বাদল হোসেন, রংপুরের আপন চন্দ্র, কিশোরগঞ্জ জেলার মো. মাজাহারুল ইসলাম, রংপুর জেলার আশিকুর রহমান, দিনাজপুরের মো. নাছির উদ্দিন, সাতক্ষীরা জেলার মো. হাসান আলী, নেত্রকোনা জেলার মো. সাইদুল ইসলাম, জামালপুরের মো. মনোয়ার হোসেন সুজন, লালমনিরহাট আ. জলিল, একই জেলার মো. আজিজুল ইসলাম, শরীয়তপুরের মো. মামুন, নোয়াখালী জেলার মো. রামিম, মো. কফিল রানা, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. হাসানুর রহমান, মো. নাইমুল ইসলাম, মো. আল আমিন, আল ইমরান, আবু তৈয়ব, মো. সুজিত, মো. ইদ্রিস, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. ওমর ফারুক, মো. শাকিল হোসেন, মো. মুরাদ হোসেন, মো. সুমন, মো. গোলাম রাব্বী, আ. রাকিব, আল আমিন, মো. আনিস খন্দকার।
উল্লেখ, গতকাল আশুলিয়ায় জিরাবোর টঙ্গাবাড়ি এলাকায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে এক কাউসার হোসেন খান নামে গুলিবিদ্ধ এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এঘটনায় আরও ছয় শ্রমিক গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।