× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শ্রীহীন কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র, নানা অব্যবস্থাপনায় সৈকত

কাজল বরণ দাস, পটুয়াখালী

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৫৭ পিএম

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:২৬ পিএম

শ্রীহীন কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র, নানা অব্যবস্থাপনায় সৈকত

অসীম জলরাশির ধারে, একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয় দেখার জন্য অনেকেরই পছন্দের তালিকায় থাকে কুয়াকাটা। কিন্তু এমন মনোমুগ্ধকর সৈকত ও আশপাশে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষোভ জানাচ্ছেন পর্যটকরা। বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও অবহেলা-অযত্নে ধুঁকছে পর্যটন নগরীটি।

রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন দেখা গেছে, সৈকতের প্রবেশদ্বারে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বালু ও জিও ব্যাগ। পর্যটকরা যখন সৈকতে নামতে চান, সেই নামার রাস্তাটুকু করা নেই। পুরো সৈকত জিও টিউব আর জিও ব্যাগের দখলে। এলোমেলো পড়ে থাকা জিও ব্যাগে শ্যাওলা জমে হয়েছে মানুষ আহত হওয়ার ফাঁদ। প্লাস্টিক ও আবর্জনায় সয়লাব পুরো সৈকত। পর্যটকের শুরুটাই হয় বিরক্তিকর অবস্থার মধ্য দিয়ে। জিরো পয়েন্টের আশপাশে গড়ে উঠেছে খুপরিঘর। সৈকতে দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের সামনেই চলে নানা ধরনের যানবাহন। এতে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরেন আগত পর্যটকরা। সৈকতের পূর্বপাশে রয়েছে মাছ ভাজার দোকান। যেগুলো থেকে নির্গত পচা পানি প্রতিনিয়ত সৈকতে মিশছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পর্যটকরা। তারপর রয়েছে আলোকচিত্রী ও মোটরসাইকেল ড্রাইভারদের উৎপাত। পর্যটকদের দেখা পেলেই পিছু নেয় তারা। সব মিলিয়ে পর্যটকরা শান্ত পরিবেশ পান না। 





সমস্যা এখানেই শেষ নয়। কুয়াকাটা পৌঁছানোর আগে পাখিমারা বাজার থেকে আলিপুর পর্যন্ত পাড়ি দিতে হয় খানাখন্দে ভরা মহাসড়ক। সাড়ে ১১ কিমি রাস্তা দিয়ে আসতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টা। ঝক্কি-ঝামেলা শেষ করে কুয়াকাটায় পৌঁছলে শুরু হয় হোটেল বয়দের টানাহেঁচড়া। পর্যটককে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় মানহীন আবাসিক হোটেলে। পছন্দের হোটেলেও ওঠা মুশকিল হয়ে পড়ে তাদের যন্ত্রণায়। ব্যাগ ধরে টানা শুরু করে।

বিড়ম্বনার এখানেই শেষ নয়। কুয়াকাটার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুবই খারাপ। সৈকতের মূল আকর্ষণ সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের স্থান। পর্যটকরা সেখানে যাওয়ার জন্য উন্মুখ থাকেন। অথচ একটু বৃষ্টি হলেই এসব স্থানে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন কুয়াকাটার মূল বেড়িবাঁধ গর্ত করে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে পানি আর কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে আছে। 

এ সত্ত্বেও কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা পাচ্ছেন না ভালো খাবারের নিশ্চয়তা। পচা আর বাসি খাবার নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। গলাকাটা দাম নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। পর্যটকদের চাপ বুঝে ভাড়া বাড়িয়ে দেয় আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের দায়িত্বশীলরা। এসব মিলিয়ে সম্ভাবনার পর্যটন নগরী আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলছেন তার স্বকীয়তা। 

এ ছাড়া সৈকত উন্নয়নে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের নিয়ে যে কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা নামমাত্র। বিচকে উন্নয়ন করতে যা করা দরকার তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

গাজীপুরের বাসিন্দা মো. জসিম বলেন, অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল কুয়াকাটায় আসব। আসলাম ঠিকই; কিন্তু ভালো কিছু দেখলাম না। সৈকতটি নোংরা। সৈকতে হাঁটা যায় না জিও ব্যাগের কারণে। চারদিকে ঝুপড়ি দোকান। নানা অসঙ্গতি দেখলাম।

কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি কেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটা নান্দনিক স্পটগুলোর কানেক্টিং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়। সৈকতের রয়েছে নানা অসঙ্গতি। আমাদের কাছেও নানা ধরনের সমস্যার কথা পর্যটকরা বলেন। আমরা সেগুলো দূর করার জন্য দায়িত্বশীলদের কাছে অনুরোধ করি। 

কুয়াকাটার প্রথম শ্রেণির আবাসিক হোটেল সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলার্সের এজিএম আল-আমীন বলেন, পর্যটকরা একবার এলে দ্বিতীয়বার আর আসতে চান না। সম্ভাবনাময় একটা পর্যটন নগরীকে পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তুলতে পারলে সরকার ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতো। 

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতাবেল শরীফ বলেন, পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করার জন্য দফায় দফায় মিটিং করি; কিন্তু সমস্যা আর দূর হয় না। ইতোমধ্যে আমরা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সঙ্গে মিটিং সম্পন্ন করেছি। আমরা দিন দিন পথে বসে যাচ্ছি। পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কুয়াকাটা থেকে। এখনই এটার প্রতি নজর দেওয়া দরকার; না হলে পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যাবে।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক কৌশিক আহমেদ বলেন, আমরা পচা-বাসি খাবারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করি। পর্যটকদের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটে, এমন কাজ কাউকে করতে দিই না। কয়েকটি হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের এসপি মো. আনসার উদ্দিন বলেন, একসময় এটার ব্যাপকতা ছিল, এখন কমে আসছে। আমরা আলোকচিত্রী ও মোটরসাইকেল ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি, যাতে পর্যটকবান্ধব ব্যবহার করে। এরপরও যারা বিভিন্ন উৎপাত করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, চার-পাঁচ বছর আগে বিচকে প্রটেকশন করার জন্য জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছিল। তা কালের পরিক্রমায় ছিঁড়ে গিয়ে এখন দৃষ্টিকটু হয়েছে। কখনও পর্যটকরা বিড়ম্বনায় পড়েন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে সৈকত পরিদর্শন করা হয়েছে। এগুলো অপসারণ ও সমস্যা নিরসনে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করব। বেড়িবাঁধের পূর্বদিকের গঙ্গামতী যাওয়ার পথের কাজ চলমান। আশা করি, আগামী দেড় মাসের মধ্যে সমাপ্ত হবে। পশ্চিমে যাওয়ার ২ কিমি রাস্তা প্রস্তাবিত রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা