সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:১৩ পিএম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:১৭ পিএম
আগুনে পোড়া দোকান। প্রবা ফটো
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সহিংসতায় প্রায় ৬ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সহিংসতায় ৮৭টি
স্থায়ী ও ৯৪টি ভ্রাম্যমাণ দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়। লুটপাট হয়েছে ২৬ দোকানের মালামাল।
সেই সঙ্গে অন্তত ২৫টি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এমনটাই জানিয়েছে প্রশাসন।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা
উপজেলার লারমা স্কয়ার এবং বাস টার্মিনাল এলাকায় সহিংসতার চিত্র এখনও দৃশ্যমান। গত
কয়েক দিন আগেও যে স্থানে ছিল সারি সারি দোকান, সেখানে এখন পুড়ে যাওয়া ঘরের খুঁটির
সারি। দোকানের জিনিসপত্র পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। কয়েকটি দোকানের মালিক নতুন করে অবকাঠামো
তৈরি করতে কাজ করেছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন তাদের দুর্দশা ও হতাশার কথা। সরেজমিনে
এমন দৃশ্যই দেখা গেছে।
লারমা স্কয়ার এবং
বাস টার্মিনালে পাহাড়ি-বাঙালিসহ সব সম্প্রদায় মিলেমিশে ব্যবসা করত। তাদের প্রশ্ন,
আমাদের কী দোষ ছিল? আমরা তো কারও তিল পরিমাণও ক্ষতি করিনি। এখন কার কাছে বিচার চাইব?
আমাদের ক্ষতিপূরণ কে দেবে। সহায়-সম্বল হারিয়ে এসব ব্যবসায়ী এখন প্রায় নিঃস্ব।
খাবার হোটেলের মালিক
কণিকা চাকমা বলেন, সামনে হোটেল আর পেছনে ছিল থাকার ঘর। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে সবকিছুই
পুড়ে গেছে।
হার্ডওয়ার দোকানের
মালিক দিদারুল আলম বলেন, আগুনে প্রায় ১৮ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এখানে দীর্ঘ
বছর ধরে পাহাড়ি-বাঙালি ভাই ভাই হিসেবে সম্প্রীতির বন্ধনে মিলেমিশে ব্যবসা-বাণিজ্য
করে আসছি। যে ক্ষতি হয়ে গেল তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে?
আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের
মধ্যে লারমা স্কয়ারে দুটি বসতবাড়ি রয়েছে। সেগুলো সলাইন রাখাইন ও এডিশন চাকমার।
বসতবাড়ির সামনে
ভাসমান দোকানের ব্যবসায়ী সলাইন রাখাইন বলেন, আগুনে পুড়ে ঘরবাড়ি আর দোকানের মালামাল
মিলে বিশ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত
পাহাড়িকা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক দিপন চাকমা জানান, কিছুদিন আগেই নতুন
করে দোকান তৈরি করেছিলেন। দোকানে মালামাল ভরপুর ছিল।
লুটপাট হওয়া মোবাইলের
দোকান তারেংয়ের মালিক কুসুম চাকমা বলেন, আমার দোকানে ভাঙচুর করে মোবাইলসহ ইলেকট্রনিক্সের
সব মালামাল নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী সৈয়দ
কুসুম বলেন, আমার দোকানে অন্তত ১৩০টি গ্যাস সিলিন্ডার ছিল তা পুড়েছে। আমি নিঃস্ব এখন
সরকারের সহায়তা পেলে আবার নতুন করে শুরু করব।
বিসমিল্লাহ বীজ
ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. আক্তার হেসেন বলেন, কয়েকটি ব্যাংক ও এনজিও থেকে ১৫ লাখ
টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে আসছি। চোখের সামনে আগুনে সব পুড়ে গেছে। সরকারের নিকট সহযোগিতা
কামনা করছি।
সহিংসতার ঘটনায়
অজ্ঞাতদের আসামি করে পুলিশ বাদী হয়ে দীঘিনালা থানায় একটি মামলা হয়েছে। দীঘিনালা
থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা
নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাজার ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী
ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় হতে খাদ্যশস্য বরাদ্দ
দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো
হয়েছে, বরাদ্দ এলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
খাগড়াছড়ি জেলা
প্রশাসক সহিদুজ্জামান বলেন, সহিংসতার ঘটনার ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে
চাল ও দুই লাখ বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেটি দ্রুত বিতরণ করা হবে।