কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:১২ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাংয়ে বিদেশি জি-৩ রাইফেল, আট রাউন্ড তাজা গোলা, একটি চাপাতিসহ শহিদ উল্লাহ নামে এক যুবককে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সাবরাং এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক যুবককে খালার বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। শনিবার বিকালে টেকনাফ বাসস্টেশন এলাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে তার পরিবার। শহিদের ছোট ভাই রাগেব উল্লাহ, স্ত্রী জেয়াছমিন করিম ও তার তিন শিশুসন্তান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিল।
লিখিত বক্তব্যে রাগেব উল্লাহ বলেন, ‘কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশনের কয়েক সদস্য অভিযানের নামে রাতে অস্ত্র ও গুলি দিয়ে শহিদ উল্লাহকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। সে একজন তেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। পাশাপাশি মুন্ডার ডেইল ঘাটের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। শহিদ উল্লাহকে ছোট খালার বাড়ি থেকে রাত ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনে কোস্ট গার্ড। এরপর কোনো কিছু বোঝার আগেই হাতকড়া লাগিয়ে গাড়িতে তোলে। এরপর ঘরে তল্লাশি চালায় তারা। ঘরে কিছু না পেয়ে পরে বাড়ি থেকে প্রায় ৮০-১০০ ফুট দূরে সুপারিবাগান থেকে বস্তায় মোড়ানো অস্ত্র নিয়ে আসে দুজন কোস্ট গার্ড সদস্য। ওই অস্ত্রের সঙ্গে তাকেও আটক দেখানো হয়েছে।’
স্ত্রী জেয়াছমিন করিম বলেন, ‘আমার স্বামীকে খালার বাড়ি থেকে ডেকে এনে অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। ডেকে আনার পর পর তাকে কেন হাতকড়া লাগানো হয়েছে, সেটা জানতে চাই। তখন তো কোনো অস্ত্র উদ্ধার বা বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়নি। এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।’ কোনোক্রমে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও মানব পাচারের সঙ্গে শহিদ জড়িত নয় বলে দাবি জেয়াছমিন করিমের।
জানতে চাইলে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের লে. কমান্ডার এইচএম লুৎফুল লাহিল মাজিদ ‘বাড়ির আঙিনা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় জি-থ্রি রাইফেল ও আটটি গুলি, একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে’ বলে ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।