কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:০১ পিএম
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:১৪ পিএম
অভিযুক্ত শিক্ষক রাজু আহমেদ। প্রবা ফটো
কুড়িগ্রামে এক শিক্ষকের দুটি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরি
করছেন তিনি। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম রাজু আহমেদ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে জেলা
প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রিভার ভিউ হাই স্কুলের আশরাফি বিনতে ইসলাম নামে
এক শিক্ষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজু
আহমেদ ২০১৮ সালে এনটিআরসিএর দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক
পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তিনি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যোগদান করে এমপিওভুক্ত হন। তার ইনডেক্স নম্বর-১১৫৫২৭৭।
পরে ২০২১ সালে এনটিআরসিএর একই সনদে পূর্বের ইনডেক্স নম্বর গোপন করে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে
আবেদন করে কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ হাই স্কুলে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। সেখানে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি
থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত সব অভ্যন্তরীণ বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন।
শিক্ষক আশরাফি বিনতে ইসলাম বলেন,
রাজু আহমেদের এমপিওভুক্তির জন্য প্রধান শিক্ষক আমাকে দুই বছর থেকে মানসিক হেনস্থা করছেন।
আমি এই প্রতিষ্ঠানে ২০০৫ সালে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। এমপিওভুক্তির
সময় এমপিও শিটে ভুলবশত আমার বিষয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় সেটি সংশোধনের চেষ্টা
করি। কিন্তু রাজু আহমেদের এমপিওভুক্তির সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক শাখা
শিক্ষক হিসেবে ফাইল সংশোধন করতে বলেন। কিন্তু শিক্ষক প্যাটার্ন অনুযায়ী তিনি রেগুলার
শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এখানে একই বিষয়ের আরেকজন শাখা শিক্ষক আছেন। যিনি আমার থেকে ৮
বছরের জুনিয়র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিষ্ঠানের
একাধিক শিক্ষক জানান, রাজু আহমেদ একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি প্রধান
শিক্ষকের যোগসাজশে এখানে যোগদান করে কর্মরত আছেন। হঠাৎ তিনি গত মে মাস থেকে কোনোরূপ
ছুটি ছাড়াই উধাও হন। পরে জানা যায় তিনি পূর্বের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। এই স্কুলের
ক্লাস রুটিন, হাজিরা খাতাসহ সব কাগজপত্রে তার নাম রয়েছে।
রাজু আহমেদ সম্পর্কে বিস্তারিত
তথ্য জানতে এই প্রতিবেদক সরকারি ওয়েবসাইটের ইএমআইএস (এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন
সিস্টেম) সেল থেকে তথ্য যাচাই করেন। সেখানে কোনোরূপ ইনডেক্স কর্তন ছাড়াই একই সঙ্গে
দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার প্রমাণ মেলে। কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ হাই স্কুলে তার পিডিএস
(পার্সোনাল ডেটা শিট) আইডি-১০১৫৬৫১৮৪। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ইসলামপুর মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ে তার পিডিএস আইডি-১০৫৬৭৪৩৪। এমপিও শিট অনুযায়ী তিনি নলছিটি রূপালী ব্যাংক
শাখার ৩২২৮০১১০১৯৫৬৯ অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন।
একই সঙ্গে একই পদে দুটি প্রতিষ্ঠানে
চাকরি করা বেসরকারি এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০২১ এর ১১.১৭ ধারা অনুযায়ী গুরুতর
অপরাধ। তা ছাড়া তথ্য গোপন রেখে এই শিক্ষক কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ হাই স্কুলে এমপিওভুক্ত
হলে তিনি যোগদান থেকেই এমপিও সুবিধা পাবেন। তার সমুদয় পাওনা এরিয়ার হিসাবে দেওয়া হবে,
যা ওই নীতিমালার ১৭.৭ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
মোবাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক রাজু
আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে রিভার ভিউ হাই স্কুলের
প্রধান শিক্ষকই ভালো জানেন। তাকেই জিজ্ঞেস করেন।’ বলে ফোন কেটে দেন।
রিভার ভিউ হাই স্কুলের প্রধান
শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইলে সব কথা হয় না, আপনি
সামনাসামনি আসেন কথা বলি। শিক্ষক রাজু আহমেদ অন্য স্কুলে চাকরি করেন এটা আমার জানা
ছিল না। আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম।’ এ কথা বলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম
বলেন, ‘একই ব্যক্তির দুটি প্রতিষ্ঠানে
চাকরি করার কোনো নিয়ম নেই। যদি করে থাকেন এবং বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন, সেক্ষেত্রে তার
বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. পুবন আখতার বলেন, ‘বিষয়টি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে পরে জানাব।’