হাসান সিকদার, টাঙ্গাইল
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:১৮ পিএম
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৫৭ পিএম
টাঙ্গাইলের বাসাইল বিলে লাল শাপলা দেখতে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
টাঙ্গাইলের বাসাইল বিলে শত শত একর জমিতে ফুটে থাকা লাল শাপলা মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকার এই বিল দিনদিন পরিচিতি পাচ্ছে লাল শাপলার বিল নামে। রোদের তাপে নুইয়ে পড়ে বলে ভোরের সূর্য ওঠার আগেই লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন নানা প্রান্তের প্রকৃতিপ্রেমীরা। সঙ্গে বাড়তি আকর্ষণ বিলের পাড়ে বিচ্ছিন্নভাবে ফোটা কাশফুল। কাশফুল জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে বর্ষা শেষে শরতের আগমনের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষার স্নিগ্ধতার রেশ এখনও রয়েছে খালে-বিলে থইথই জলের ফুটে থাকা শাপলা ফুলে। তেমনই এক শরতের সকালে শুভ্র নীল আকাশ আর জমিনের হালকা কুয়াশার চাদরে মোড়া ধরণীতে উঁকি দিচ্ছে সূর্য। সেই সূর্যের আলো শাপলার সবুজ পাতা আর লাল পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরে ধরা দিয়েছে যেন মুক্তা হয়ে। সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন স্থান থেকে বিলের ধারে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
প্রতিদিন ভোরে দূরদূরান্ত থেকে শত শত প্রকৃতিপ্রেমীরা ফুটে থাকা লাল শাপলার সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসছেন। রোদের তাপে নুইয়ে পড়ে বলে ভোরের আলো ফুটতেই লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন নানা বয়সি নারী-পুরুষ। কেউ কেউ কাদা মাড়িয়ে শাপলা তুলে খোঁপায় গুঁজছেন, আবার কেউ শাপলা তুলে ছবি তুলছেন। এ যেন লাল শাপলা ফুলের মেলা। কেবল সৌন্দর্য উপভোগই নয়, এই লাল শাপলা হয়ে উঠেছে প্রান্তিক মানুষের জীবিকার উৎসও। এখান থেকে প্রতিদিন তোলা হচ্ছে ১০-১৫ হাজার টাকার শালুক। তবে বিলে নৌকা না থাকায় নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় দর্শনার্থীদের।
তানিয়া আক্তার নামে একজন দর্শনার্থী বলেন, সখীপুর থেকে এখানে লাল শাপলা দেখতে এসেছি। দেখে অনেক ভালো লাগল। তবে বিলে নৌকা না থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কাদা মাটি পেরিয়ে বিলে যেতে হয়।
অনামিকা রিতু নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, এখানে প্রথম এসেছি। বিলের শাপলা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বিলের মাঝখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা ভালো হলে আরও দর্শনার্থীরা আসবে।
বেড়াতে আসা শিমু আক্তার বলেন, আগে এখানে মানুষ আসত না। এখন লাল শাপলা দেখে অনেক মানুষ দূরদূরান্ত থেকে আসতেছে। বিনোদনের একটা জায়গা হয়েছে। সবাই তাদের ইচ্ছামতো ছবি তুলছে। আগামী মৌসুমে নৌকাসহ পর্যটন উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা গেলে এই শাপলা বিলকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ।
ফাহিমা খাতুন নামে আরেকজন বলেন, এত লাল শাপলা কখনোই দেখিনি। বান্ধবীদের সঙ্গে এসেছি। হাজার হাজার লাল শাপলা ফুল ফুটেছে। প্রকৃতি যেন অন্যরকম সাজে সেজেছে। দেখতে খুবই সুন্দর লাগছে।
পরিবার নিয়ে আসছেন সাব্বির হোসেন নামে একজন। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে ইচ্ছে ছিল লাল শাপলার সঙ্গে ছবি তুলব। আজ ইচ্ছেটাকে পূর্ণতা দিলাম। ভোর বেলায় লাল শাপলা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। লাল শাপলার রাজত্ব মনকে প্রফুল্ল করে তুলেছে।