হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:২৭ পিএম
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:০৯ পিএম
দিনাজপুরের বিরামপুরে নতুন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়। প্রবা ফটো
অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে দিনাজপুরের বিরামপুরে নতুন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে স্ট্যাম্প ভেন্ডার ও দলিল লেখকদের বসার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে আসা গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত বিশ্রাম রুমে দলিল লেখকদের বসিয়ে দলিল প্রতি ১৬০ টাকা নেন সাব-রেজিস্ট্রার। এতে বাড়তি টাকা গুনতে হয় গ্রাহকদের।
এদিকে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এসে বসার জায়গা না পেয়ে বাহিরে বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে বসে সেবা গ্রাহকরা।
সরিজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় গ্রাহকদের বিশ্রাম রুমে প্রায় ৬০-৬৫ জন দলিল লেখক বসে কাজ করছেন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার ভবনের প্ল্যান্ট সিটে রয়েছে নিচ তলায় ক্রেতা-বিক্রেতার রুম ও তাদের বাথরুম ও নামাজঘর। কিন্তু অর্থ কামায়ের জন্য দলিল লেখকদের এই রুম বসে কাজ করতে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দলিল প্রতি ভাড়া বাবদ নিচ্ছেন ১৬০ টাকা। বসার স্থান না পেয়ে বিপাকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেবা নিতে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা।
আজিজার রহমান, জহুরুল শেখ ও ফরিদা খাতুনসহ কয়েকজন গ্রহীতা বলেন, আমরা জমি কিনতে আসছি। এখানে বসার তেমন কোন জায়গা নেই। এই অফিসের বাহিরে আর গেটের পাশে ঘাসের ওপর বসে সময় কাটাচ্ছি।
সুজয় সাহা, ফাহমিদ হোসেনসহ কয়েকজন জমি বিক্রেতা বলেন, আমরা জমি বিক্রি করব, তাই আসছি। তবে এখানে বসার কোনো জায়গা নেই। সকাল থেকে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। যদি বসার জায়গা থাকত তাহলে ভালো হতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দলিল লেখক বলেন, আমাদের বসার কোনো জায়গা না থাকার কারণে আমরা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে বসে কাজ করি। এর বিনিময়ে আমরা দলিল প্রতি ১৬০ টাকা করে দিয়ে থাকি। প্রতিদিন আমাদের বিরামপুরের সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ৮০ থেকে ৯০টি দলিল হয়ে থাকে। এতে করে যেদিন দলিল লেখার কাজ হয়ে থাকে, সেদিন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন হয়ে থাকে।
স্থানীয় খায়রুল বাসার বলেন, বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দেখেছি, দলিল লেখক ও ভেন্ডাররা অফিসের বাহিরে কাজ করে। কিন্তু এই অফিসে তা আলাদা। অফিসের পাশে তাদের জন্য একটা আলাদা সেড করা আছে। কিন্তু তারা সেখানে না বসে, অফিস দখল করে আছে।
গ্রহীতা-বিক্রেতাদের বিশ্রামের স্থানে কেন আপনারা বসেন জানতে চাইলে, বিরামপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, আমাদের বসার স্থান এখনও করা হয়নি। জায়গা ঠিক করা আছে, সেড তৈরি হলে আমরা চলে যাব।
বিরামপুর সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা হিমেল বাহার শুভ বলেন, দলিল লেখকদের নির্ধারিত কোনো সেড নেই, সেই জন্য আমরা সাময়িকভাবে তাদের এই রুমে বসতে দিয়েছি। দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে কোনো অর্থ লেনদেন করা হয় না। তবে আমি যেটি শুনেছি যেহেতু তারা রুমটি ব্যবহার করেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য একজন লোক কাজ করে তার মজুরি বাবদ কিছু টাকা দিতে পারে। তবে আমরা কোনো টাকা তুলিনা। আমি দলিল লেখকদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বাহিরে যেন একটি বসার ব্যবস্থা করে নেন সেই বিষয়টি আমি তাদের বলে দিব।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুজহাত তাসনীম আওন বলেন, যেহেতু সাব-রেজিস্ট্রার অন্য দপ্তর। আমি মাসিক মিটিংয়ে সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা সাব-রেজিস্ট্রার (ডিআর) মো. সাজেদুল হক বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের যেসব নতুন ভবন নির্মাণ হয়েছে। ওইসব ভবনের নিচ তলায় ভেন্ডার অর্থাৎ যারা জমি গ্রহীতা ও বিক্রেতারা আসেন তারা বিশ্রাম করবেন। এই স্থানে কোনো দলিল লেখক কিংবা ভেন্ডার বসতে পারবে না। দলিল প্রতি ভাড়া বাবদ ১৬০ টাকা করে কেন তোলা হয়, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। কোনভাবে কোন টাকা তোলার নিয়ম নেই।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আমি তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।