লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:০১ পিএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:১৫ পিএম
নিহত জোসনা বানু।
লালমনিরহাটের আদিতমারীর তিস্তার চরে মেহেদি রাঙানো দুই হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় জোসনা বানু (১৮) নামে এক নববধূর মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। দুই হাত বেঁধে সেতু থেকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে হত্যা করেন তার স্বামী জাহিদ ইসলাম (২০)। জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের চৌরাহা মাদ্রাসা এলাকা থেকে তিস্তা নদীতে ভাসমান অবস্থায় ওই নববধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার স্বামী জাহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করে নীলফামারী জেলার ডিমলা থানা পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। এর আগে সোমবার রাতে নিহত তরুণীর চাচা সরোয়ার হোসেন বাদী হয়ে নীলফামারীর ডিমলা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জোসনা বানু ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের কৃষক জহর আলীর মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। সম্প্রতি একই উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের মোহম্মদ আলীর ছেলে জাহিদ ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। জাহিদ দিনাজপুর শহরে ভেকু গাড়ি চালান বলে জানা গেছে।
জাহিদের স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, জাহিদ দিনাজপুরে কাজ করতেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে জোসনা তার সঙ্গে ঢাকা যাওয়ার জন্য জেদ ধরেন। তিনি জাহিদের সঙ্গে ঢাকায় গিয়ে থাকতে চান বলে জানিয়েছিলেন। এজন্য তাকে ঢাকায় না নেওয়া হলে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন জোসনা। কিন্তু জাহিদ তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এই বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও মনোমালিন্য হয়। এতে জোসনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জাহিদ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বর বিকালে চাচাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জোসনাকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে শেখ হাসিনা সেতুতে বেড়াতে নিয়ে যান জাহিদ। এরপর সেখানে স্বামী জাহিদ তার হাত যখন বাঁধে তখন স্ত্রী জোসনা বলেন, ‘তোমার জন্য আমি জীবন দিতেও রাজি, বাঁধো হাত’। পরে জোসনার হাত বেঁধে সেতু থেকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেন জাহিদ।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ রায় বলেন, নববধূ জোসনা নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর জাহিদ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি দেখে সেটি তার স্ত্রী জোসনার বলে নিশ্চিত করেন। স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার সময় দিনাজপুরে ছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন জাহিদ।
ওসি আরও বলেন, বিষয়টি পুলিশের সন্দেহ হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সময় জাহিদের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। এরপর ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। জাহিদকে সেই ঘটনাস্থলে নেওয়া হলে তিনি নিজেই হত্যার ঘটনার বর্ণনা দেন বলেও জানান ওসি।