আত্রাই অগ্রণী কলেজ
রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৪৫ পিএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৫৫ পিএম
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আরসুজ্জামান মালেক।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার আত্রাই অগ্রণী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আরসুজ্জামান মালেকের বিরুদ্ধে প্রভাষক নিয়োগ দেখিয়ে মাসের পর মাস বেতন-ভাতা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তিনি দুই ছেলের নামে কলেজের জমি লিখে দিয়েছেন। কলেজটির সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হক দেওয়ান সম্প্রতি তথ্যপ্রমাণসহ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে এসব ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেছে জেলা প্রশাসন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তসলিম উদ্দিন ও শামিমা আকতার নামের কেউ চাকরি না করলেও এ দুজনকে প্রভাষক দেখিয়ে বেতন-ভাতা তুলে আত্মসাৎ করেছেন আরসুজ্জামান মালেক। তিনি কলেজের ইনডেক্সে অবৈধভাবে একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন তুলে নিয়েছেন। অভিযোগপত্রে প্রমাণ হিসেবে এমপিও কপি সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অধ্যক্ষের ছেলে মাহমুদুজ্জামান সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু তাকে কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর তিনি বেতন-ভাতা তুলছেন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ের শিক্ষক হিসেবে। এ ছাড়া অধ্যক্ষ আরসুজ্জামানের জন্ম তারিখ দুটি। প্রথম জন্ম তারিখ অনুযায়ী ২০২০ সালেই তার অবসরে যাওয়ার কথা। কিন্তু বেশি দিন চাকরিতে থাকতে তিনি দুটি জন্ম তারিখ করেন। নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষক পরপর দুই মেয়াদের বেশি গভর্নিং বডিতে প্রতিনিধি থাকতে পারবেন না। কিন্তু অধ্যক্ষ তার অনুগত সহকারী অধ্যাপক রহিমা খাতুনকে ২০১২ সাল থেকে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রাখেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের পদোন্নতির জন্য অধ্যক্ষ অর্থ বাণিজ্য করেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রের সঙ্গে জমি বিক্রির দলিল এবং নিরীক্ষা আপত্তির কাগজপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, ২০০০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ তার ছেলে এম মাহমুদুজ্জামান সুমন ও এম মাহবুবুজ্জামান জয়ের নামে কলেজের শূন্য দশমিক ৭৪ শতক জমি দলিল করে দিয়েছেন। বিক্রয় কবলা দলিলে জমির মূল্য ধরা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। শিক্ষকদের অভিযোগ, নামমাত্র মূল্য দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার এ জমি ছেলেদের নামে লিখে দেন অধ্যক্ষ। দলিল করার সময় অধ্যক্ষের এক ছেলে নাবালক ছিল বলেও শিক্ষকদের অভিযোগ।
কলেজটিতে ২০১৪ সালের ২ মার্চ নিরীক্ষা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর। পরে উপপরিচালক দেবদুলাল ভট্টাচার্যের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭টি দলিলে কলেজের মোট জমির পরিমাণ দাবি করা হয় ২ দশমিক ৭৮ একর। কিন্তু নিরীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র তিনটি দলিলে জমির পরিমাণ ১ দশমিক ২৫ একর। প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রি করতে হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু কোনো অনুমোদন নেননি অধ্যক্ষ। তিনি গভর্নিং বডির ওপর দায় চাপিয়ে বিষয়টি এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। সরকারি বিধিবিধান প্রতিপালন না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয় ওই প্রতিবেদনে। তারপরও এত দিন বহাল ছিলেন অধ্যক্ষ।
প্রায় ২৭ বছর ধরে কলেজটিতে অধ্যক্ষ হিসেবে ছিলেন আরসুজ্জামান মালেক। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি পদত্যাগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও তদন্ত কর্মকর্তা শাহিন মিয়া বলেন, ‘তথ্যপ্রমাণসহ বুধবার অভিযোগকারী ও অভিযুক্তকে আসতে বলা হয়েছিল। অভিযোগকারী এসেছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আরসুজ্জামান মালেক সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।’