বৃত্তাকার স্পিডবোট সেবা
রেজাউল করিম, গাজীপুর
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৪১ পিএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৪৮ পিএম
অতিরিক্ত যানজট থেকে মুক্তিসহ সময় সাশ্রয় করতে দুই বছর আগে গাজীপুরে চালু করা হয় নৌপথে বৃত্তাকার স্পিডবোট সেবা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই সেবা চালু করে। তবে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের কিছুদিন পরেই হারিয়ে গেছে এই নৌপথের বৃত্তাকার স্পিডবোট সেবা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর টঙ্গী নদীবন্দর থেকে ঢাকা বৃত্তাকার নৌপথে স্পিডবোট সার্ভিস চালু করা হয়। স্পিডবোট চলাচল উদ্বোধন করেন তৎকালীন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। এ সময় টঙ্গী ইকো-পার্কও উদ্বোধন করেন তারা। প্রথম দিকে এই রুটে পাঁচটি স্পিডবোট চললেও পরে আরও কিছু দ্রুতগামী নৌযান (স্পিডবোট) যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। বেসরকারি উদ্যোগে টঙ্গী ও আব্দুল্লাহপুর থেকে কড্ডা, টঙ্গী থেকে কালীগঞ্জের উলুখোলায় পাঁচটি স্পিডবোট সেবা চালু করা হয়। নির্ধারণ করা হয়েছিল ভাড়াও। যাত্রী চাহিদা বাড়লে কড্ডা থেকে গাবতলী ও গাবতলী থেকে সদরঘাট পর্যন্ত দ্রুতগামী স্পিডবোট চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। এটি চালু হওয়ার পর বেশ উচ্ছ্বসিত ছিল নদীপথের যাত্রীরা। তবে কিছুদিন পর থেকেই বন্ধ রয়েছে এই স্পিডবোট সেবা। কয়েকদিন চললেও সেটি কেন বন্ধ হয়ে গেছে বলতে পারেন না নদীবন্দর এলাকার কেউ।
কড্ডা বাজার নৌঘাটে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শুধু ফেসবুকেই কড্ডায় স্পিডবোট দেখেছি। বাস্তবে আইসা আর দেখতে পারি নাই। মনে হয় কয়দিন চলছিল। এখন তো আর চলে না। তবে স্পিডবোট সার্ভিসটা চালু থকা দরকার ছিল।’
কাঁঠালিয়াপাড়া এলাকার কলেজপড়ুয়া মেহেদী হাসান বলেন, ‘স্পিডবোট চালু হয়েছিল, তবে কিছুদিন পরেই বন্ধ হয়ে যায়। এই সার্ভিস চালু থাকলে ঢাকা যেতে কম সময় লাগত। পাশাপাশি নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা যেত। নদীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পেছনে নদীপথে যাতায়াত সুবিধা কমে যাওয়া অন্যতম কারণ।’
টঙ্গী নদীবন্দর এলাকার মাঝি আওলাদ হোসেন বলেন, ‘কয়েক বছর আগে মহা ধুমধামে স্পিডবোট সার্ভিস চালু করা হয়। পত্রপত্রিকাও লেখালেখি হয়। কিন্তু কিছুদিন চলার পর আর দেখা যায়নি। আমরা তো নদীর এপারওপার পারাপার করি। তবে অল্প সময়ে দূরের পথে যেতে এই সার্ভিসটা ভালো ছিল।’
বৃত্তাকার স্পিডবোট সেবা বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গী নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, সার্ভিস চালু হওয়ার তিন মাস পরেই বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রী পাওয়া যায় না, ভাড়াও বেশি। এ ছাড়াও শীতকালে স্পিডবোটের পাখায় আর্বজনা বেঁধে চলতে অসুবিধা হয়, এজন্য বন্ধ হয়ে গেছে।