× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মুরাদনগরে জলাবদ্ধতায় ৪ হাজার কৃষকের ক্ষতি

মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:১১ পিএম

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:১২ পিএম

মুরাদনগরে জলাবদ্ধতায় ৪ হাজার কৃষকের ক্ষতি

সাম্প্রতিক অতি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ৪ হাজার ২৯৬ কৃষকের ৩৩৬.৯ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। আখ, আমন বীজতলা, রোপা আমন, খরিপ-২ শাকসবজি, রোপা আউশ ও বোনা আমনসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যার মূল্যমান ১৮ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার ৯৮১ টাকা। ফসলের এই ক্ষতিতে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

উপজেলার দরিকান্দি গ্রামের আখচাষি শাহজাহান কবির বলেন, ‘আখই আমাদের প্রধান ফসল। আড়াই লাখ টাকা ঋণ তুলে ৫ বিঘা জমিতে আখের বীজ রোপণ করেছি। গাছগুলো বিক্রির উপযুক্ত হওয়ার আগেই গোমতীর পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। আখের জমিগুলো নষ্ট হওয়ায় খুব অর্থকষ্টে কাটছে জীবন। আখ বিক্রির ওপর নির্ভর করেই পরিবারের ভরণপোষণ ও বাঁচার স্বপ্ন দেখতে হয়। কিন্তু সব স্বপ্ন গোমতীর জলে ভেসে যায়। এখন কিস্তির লোকেরা এসে বাড়িতে বসে থাকে। এদের ভয়ে কখনও কখনও পালিয়ে বেড়াই।

সাতমোড়া এলাকার কৃষক রুমান মিয়া ও শিউলি আক্তার বলেন, ‘জমিতে পানি আটকে থাকায় লাউ, করলা, লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, আখ, আমন ধানের বীজতলা ও আউশ ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে।’ একটু টানা বৃষ্টি হলেই ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। খালের বাঁধগুলো কাটলে আমাদের জলাবদ্ধতা থাকবে না।’

কৃষক ছাদেকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের গ্রামে ৬০ জন আখ ও সবজিচাষি। সবাই দরিদ্র। শুধু এই আখ চাষের ওপর নির্ভর করেই চলে সকলের জীবন। আখ নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা চিন্তায় দিশাহারা। সরকারি সহায়তা পেলে কৃষকরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে উঠবে।’

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কৃষক জহিরুল হক বলেন, ‘আমার ধানের জমিগুলো জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়ে গেছে। একটি ধানও ঘরে তুলতে পারিনি। এ বছর কেমনে চলব কিছু ভেবে পাচ্ছি না।’

তারা জানান, ভারী বৃষ্টি হলে জমিতে আটকে থাকে। পানি আটকে থাকার মূল কারণ হচ্ছে খালগুলো বাঁধ দিয়ে দখল করা। গত ১৫ বছরে এমন কোনো খাল নেই যেটা ক্ষমতাসীনরা দখল করেনি। খালের ওপর খণ্ড খণ্ড বাঁধ দিয়ে বাড়িঘর-দোকান নির্মাণ করছেন। এভাবেই সব খালের জায়গায় জায়গায় বাঁধ দেওয়া হয়েছে। খালে বাঁধ দেওয়ার কারণে ক্ষেতের পানি কোনো দিকে সরতে পারে না, ফলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার জাহাপুর, ধামঘর, নবীপুর পূর্ব, নবীপুর পশ্চিম, মুরাদনগর সদর, রামচন্দ্রপুর উত্তর, রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ, আকবপুর, আন্দিকোট ও শ্রীকাইলসহ ২২টি ইউনিয়নের কৃষিজমিতে পানি আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে জাহাপুর ইউনিয়নে সাড়ে তিন হাজার বিঘা কৃষিজমি সারা বছর জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে জমিগুলোতে কোনো ফসলই করা যায় না। এই নিয়ে কৃষকরা নানা সময় প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন ও স্থানীয় এমপিকে অবগত করলেও কোনো কাজে আসেনি। এই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ খালগুলোকে খণ্ড খণ্ড বাঁধ দিয়ে পানি চলাচলের পথ আটকে রাখা। ভারী বর্ষণে এভাবে ২২ ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, নষ্ট হয় কৃষকের স্বপ্নের ফসল।

মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু বলেন, বৃষ্টির পানি আটকে চার হাজারেরও বেশি কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে। তাদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি, সহায়তা পেলে কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অতিবৃষ্টি থেকেই এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খালগুলো সচল করা গেলে কৃষকরা অদূর ভবিষ্যতে এই ক্ষতি থেকে বেঁচে যাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা