গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৪৫ পিএম
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৫৩ পিএম
প্রতীকী ছবি
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার দক্ষিণ ছয়দানার হাজির পুকুর এলাকার একটি বসত ঘর থেকে বৈদ্যুতিক শট সার্কিটে মারা যাওয়া যুবক-যুবতীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খবর পেয়ে ৯টার দিকে গাছা থানার দক্ষিণ ছয়দানার হাজির পুকুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের ভাড়া বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।
গাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মোহাম্মদ বিল্লাল শেখ সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানার সিমলা গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে। বিল্লাল গাজীপুর মহানগরের ছয়দানা এলাকার আক্তার মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে দর্জির কাজ করতো, নিহত যুবতী শ্যামলী আক্তার গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার বীরপুরন্দ গ্রামের আব্দুল জব্বারের মেয়ে। শ্যামলী গাজীপুর মহানগরের ছয়দানা এলাকার বিল্লাল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় প্রীতি সোয়েটার নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন।
স্থানীয়রা জানায়, শ্যামলী ও মোহাম্মদ বিল্লাল শেখের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। শ্যামলীর ভাড়া করা কক্ষে সোমবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় মোহাম্মদ বিল্লাল শেখ যায়। মঙ্গলবার ভোর ৬টার সময় পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া জুয়েল শ্যামলীর রুমের দরজা আংশিক খোলা দেখতে পেয়ে দরজায় ধাক্কা দেয়। এসময় তাদের একে অন্যের সাথে জড়ানো গলায় ও হাতে বৈদ্যুতিক তার প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকলে স্থানীয়রা ঘটনাটি গাছা থানা পুলিশকে জানান।
এসআই সুমন মিয়া বলেন, নিহত শ্যামলীর স্বামী ও সন্তান আছে। সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সে গাজীপুরের ছয়দানা এলাকার প্রীতি গার্মেন্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। চলতি মাসের ১ তারিখের বিল্লালের বাড়িতে বাসা ভাড়া নেয়। গাজীপুরে বসবাসের সুবাদে নিহত মোহাম্মদ বিল্লাল শেখের তার পরিচয় হয়। ধারণা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, কারণ প্রেমের সম্পর্ক না থাকলে কোন মেয়ের ঘরে একজন ছেলে যেতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের পরে আশপাশের প্রতিবেশী চিল্লাচিল্লির শব্দ পেয়ে শুনতে পেয়ে ঘরের দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে যায়। রান্না ঘরের বিদ্যুতের লাইন থেকে অতিরিক্ত একটা তারের মাধ্যমে লাইনে নিয়ে মেয়ের বাম হাত ও ছেলের ডান হাতে বিদ্যুতের তার পেঁচিয়ে বুকে জড়িয়ে আত্মহত্যা করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।