মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৩৫ পিএম
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৪২ পিএম
ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রবা ফটো
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম প্রহরী পদে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন সাইদুল ইসলাম। পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন তিনি। তবে সেই পদে চাকরি মেলেনি তার। ১০ বছর আগে ২০১৪ সালের ঘটনা এটি। সেই সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ এবং আদালতে মামলাও করেছেন ভুক্তভোগী সাইদুল। আদালত তার পক্ষেই রায় দিয়েছেন। তবুও চাকরি হচ্ছেনা। এখন দুমুঠো খাবার জোগাড় করতে দিনমজুরের কাজ করছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে কয়েকজনের মধ্যে ফরিদপুর গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে সাইদুল ইসলামও একজন প্রার্থী ছিলেন। পরীক্ষায় প্রথম হন সাইদুল ইসলাম, দ্বিতীয় হন অতুল চন্দ্র ও তৃতীয় হন সাদিক রহমান। টেবুলেশন সিট ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি রেজুলেশন করে ২০১৪ সালের ৭ জুলাই মেধাক্রম অনুমোদন, মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রস্তুত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু কোন কার্যক্রম পরিচালনা না করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে মেধাক্রমে তৃতীয় অবস্থানে থাকা সাদিক রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হন সাইদুল ইসলাম। চাকরি পেতে আদালতের রায়ও পেয়েছেন তিনি। কিন্তু এখনও চাকরি পাননি।
সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষায় আমি প্রথম হয়েছিলাম। তারপরও আমাকে বাদ দিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তিকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল। আমি আদালতে মামলায় রায় পেয়েছি। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে চাকরি ফিরে পাচ্ছিনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমি নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছি। দিনমজুরেরর কাজ করে চলছে সংসার। একবেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। আমি ন্যায় বিচার চাই।’
ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নিশিকান্ত রায় বলেন, ‘দপ্তরি কাম প্রহরী পদে নিয়োগে সাইদুল ইসলাম প্রথম হয়েছিল। তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য টেবুলেশন সিট, রেজুলেশন করে ইউএনওর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সাইদুল ইসলাম চাকরি পাননি। পরীক্ষায় তৃতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তিকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল।’
ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক জাহান আরা বেগম বলেন, ‘দপ্তরি কাম প্রহরী পদে দায়িত্ব পালন করছেন সাদিক রহমান। তবে তার টেবুলেশন সিট ও রেজুলেশন কোনটি আমার বিদ্যালয়ে নেই। শুধুমাত্র ইউএনওর কার্যালয়ের একটি নিয়োগপত্রের কপি রয়েছে।’
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিদ্যালয় কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম অবস্থানে ছিলেন সাইদুল ইসলাম। তবে তৃতীয় অবস্থানে থাকা সাদিক রহমানের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন তৎকালীন এমপি এইচএন আশিকুর রহমানের কাছের মানুষ। একারণেই কোন নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক শাহ বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ কার্যালয়ে এসেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিকাশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’