× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জামালপুরের মাদারগঞ্জ

যমুনায় বিলীন ২ শতাধিক বাড়িঘর

খাদেমুল ইসলাম, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০:৫৩ এএম

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:৫২ এএম

জামালপুরের মাদারগঞ্জে যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে ২ শতাধিক ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি। রবিবার উপজেলার পাকরুল এলাকা । প্রবা ফটো

জামালপুরের মাদারগঞ্জে যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে ২ শতাধিক ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি। রবিবার উপজেলার পাকরুল এলাকা । প্রবা ফটো

জামালপুরের মাদারগঞ্জে যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি ও প্রায় সাড়ে ৬০০ বিঘা ফসলি জমি। চলতি বর্ষা মৌসুমে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল এলাকায় এসব বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়াও ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক, পাকা মসজিদ, কবরস্থান, তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘরসহ ২ শতাধিক বসতবাড়ি। যেকোনো সময় এসব স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিওব্যাগ ফেললেও কাজে আসছে না। একদিকে জিওব্যাগ দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও অন্যদিকে আবার ভাঙন শুরু হচ্ছে। ফলে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের।

স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার যমুনা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আবারও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় নদীর তীরবর্তী পরিবারগুলো বসতঘর অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে। গত কয়েক বছরে পাকরুল এলাকার অধিকাংশ বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২ শতাধিক বসতবাড়ি ও সাড়ে ছয়শ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মারাত্মক ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে হিদাগাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিক, আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘরসহ কবরস্থান ও পাকা মসজিদ। যা নদী থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছরেও নদী ভাঙনরোধে স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার ফলে গোটা একটি এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। আবার সাময়িক নদীভাঙন রোধে যে প্রকল্প দেওয়া হয়েছিল তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। নামমাত্র নদীতে জিওব্যাগ ফেলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওইসব প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করেছে। যমুনার ভাঙনরোধে দ্রুত স্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

যমুনার ভাঙনকবলিত পাকরুল এলাকায় কথা হয় বৃদ্ধ সিদ্দিক শেখের সঙ্গে। তার চোখে-মুখে কষ্টের প্রতিচ্ছবি। একসময় আবাদি জমি, বসতভিটা, ফলের বাগান ও সাজানো সংসার ছিল; কিন্তু এখন কিছুই নেই। সব কেড়ে নিয়েছে যমুনা নদী। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন জামাতার বাড়িতে। সেই বাড়িও এখন ভাঙনের মুখে পড়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে অশীতিপর সিদ্দিক শেখ বলেন, নদী ঘরবাড়ি, জায়গাজমি সব ভাইঙ্গা নিছে। সেই শোকে চার মাস হইল বাড়িয়ালাও মইরা গেছে। সব হারাই ফেলাইছি, আমার আর কিছুই নাই। সব ভাইঙ্গা নিলি, আমারে কেন নিলি না। এই বয়সে এখন কই যামু, কই থাকমু? 

স্থানীয় বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ, দবিরুল ইসলাম ও সুজা মিয়া বলেন, গত এক বছরে নদীভাঙনে প্রায় ৫ শতাধিক বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আরও শতাধিক বসতভিটা, কমিউনিটি ক্লিনিক, আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘরসহ কবরস্থান ও পাকা মসজিদ ভাঙনের মুখে পড়েছে। গত কয়েকদিনে অনেকে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গত কয়েকবছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রাইমারি স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, কবরস্থান, বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ মানুষের বিভিন্ন স্থাপনা। 

পাকরুল এলাকার নিজাম মন্ডল বলেন, গত কয়েকমাস আগে তার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সব হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। একই গ্রামের অহর উদ্দিন মোল্লা বলেন, গত কয়েকবছরে নদীভাঙনে বাপ-দাদার বসতবাড়িসহ আশপাশের মানুষের শত শত বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। বিগত সময়ে জনপ্রতিনিধিরা ভাঙনরোধে কাজ করার আশ্বাস দিলেও কিছুই হয়নি বলে জানান তিনি।

একই এলাকায় খাইরুল ইসলাম বলেন, চরপাকেরদহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড পাকরুল এলাকা পুরোটাই নদীগর্ভে চলে গেছে। যাদের বসতবাড়ি ভেঙে গেছে, তাদের থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। তাদের কেউ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙনরোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নিমার্ণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। আবু বক্কর সিদ্দিক নামে আরেকজন জানান, তার ২০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে ভেঙে গেছে। এখন তার বসতভিটাও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।

পাউবো জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদারগঞ্জের পাকরুল এলাকায় যমুনা নদীর বাম তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি সেখানে ১ হাজার ৫০০ মিটার অংশে নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প দেওয়া হয়েছে; যা পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন। প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ার পর বাস্তবায়ন হলে ওই এলাকার নদীভাঙন অনেকটাই রোধ হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা