নদী ভাঙন
কৃষ্ণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৩৭ পিএম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৫১ পিএম
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবসিয়া গ্রামে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবা ফটো
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা আনুলিয়া ইউনিয়নের
কাকবসিয়া গ্রামে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে দুঃশ্চিন্তায়
দিন পার হচ্ছে তিন ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের। কাকবসিয়া গ্রামের খেয়াঘাটসংলগ্ন
প্রায় ৩০০ ফুট ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না
নেওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে তারা।
স্থানীয় কাকবসিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর
আলম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে জোয়ারের পানিতে কাকবসিয়া খেয়াঘাট এলাকায় তিনশ ফুট
রাস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের চেঁচামেচিতে এসে দেখি
জোয়ারের চাপে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইলা, আম্পান,
বুলবুলসহ একাধিক দুর্যোগের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত এসব এলাকার নদীরক্ষা বেড়িবাঁধ। তাদের
দাবি ত্রাণ চাই না, চাই টেকসই বেড়িবাঁধ।
খেয়াঘাটের মাঝি আব্দুল খালেক গাজী ও মো. মফিজুল
ইসলাম জানান, ফজরের নামাজ আদায় করে খেয়াঘাটে আসি। রাতের জোয়ারের পানি নামার সঙ্গেই
সঙ্গেই ভাঙনের ফাটল ধরা শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরেই ইটের সলিং ও যাত্রী ছাউনিসহ ঘাটের
পাড়ের তিনশ ফুট জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দ্রুতসময়ের মধ্যে বাঁধের সংস্কারের
কাজ না করলে নদীরক্ষা বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে।
চেউটিয়া গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী রোকন সানা
অভিযোগ করে বলেন, একই স্থান থেকে গত তিন বছরে তিনবার ভেঙেছে। যখনই ভাঙে তখন পানি উন্নয়ন
বোর্ডের কর্মকর্তারা সে স্থানে মাটি দিয়ে যায়। আগে থেকে কোনো কাজ তারা করে না। ভাঙনের
প্রায় দুই দিন হলেও এখনও পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোক বা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেখা
যায়নি।
আনুলিয়া ইউপির চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস
জানান, সকালের ভাটা থেকে শুরু করে দুপুরের জোয়ার মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে
বিলীন হয়েছে কাকবসিয়া খেয়াঘাটের যাত্রী ছাউনি ও ১০০ মিটার ইটের সলিংসহ ৩০০ ফুট রাস্তা।
খেয়াঘাটসংলগ্ন বেড়িবাঁধের দ্রুত সংস্কারের কাজ না করলে আনুলিয়া, প্রতাপনগর ও খাজরা
ইউনিয়নের প্রায় ৪০ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় প্রতিদিনের
বাংলাদেশকে জানান, খোলপেটুয়া নদীর কাকবসিয়া খেয়াঘাট এলাকায় ভাঙনের কথা শোনামাত্রই
পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। দ্রুত এর সমাধান
হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও মোমেন
আলী বলেন, ‘ভাঙনের কথা আমরা শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভাঙন প্রতিরোধে নকশা তৈরি
করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত এর
কাজ শুরু হবে।’