অরুপ রতন, বগুড়া
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:৩৭ এএম
আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বগুড়ায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। শনিবার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল। প্রবা ফটো
আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বগুড়ায় নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি বেশিরভাগই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। গত সপ্তাহের তুলনায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। নিউমোনিয়ার প্রকোপ সাধারণত শীতে বাড়লেও এবার গরমের কারণেও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দুই দিনের মধ্যে জ্বর না কমলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল ও সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
শজিমেক হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ৩০ জন রোগী ভর্তি আছে। এদের বেশিরভাগই ঠান্ডা, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। একই অবস্থা সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে। গত সপ্তাহের ব্যবধানে এই হাসপাতালে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী বেড়েছে দ্বিগুণ। গত সপ্তাহে ৬-৭ জন ভর্তি থাকলেও এই সপ্তাহে এখন প্রতিদিন ১১-১২ জন ভর্তি থাকছে।
ফরিদা পারভীন নামে এক শিশুর মা বলেন, ‘মেয়ে নিউমোনিয়ায় ভুগছে। প্রথমে অসুস্থ হলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কিছু দিন পর সুস্থতা অনুভব করলে বাসায় চলে আসি। এর কিছু দিন পর আবারও সমস্যা দেখা দেয়। এরপর মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানেও রোগী বেশি।’ রুমানা খাতুন নামে আরেকজন বলেন, ‘তীব্র গরমের কারণে ছেলের হঠাৎ করে জ্বর-সর্দি-কাশি শুরু হয়। এরপর পাতলা পায়খানা হলে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।’
চিকিৎসকেরা জানান, প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেক শিশু। এদের মধ্যে পাঁচ ধরনের সমস্যা নিয়ে বেশি আসছে রোগীরা। যেমন সর্দি-জ্বর, শরীরে র্যাশ ওঠা, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও অ্যাজমা। এসব রোগীর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্তরা বেশি ভর্তি হচ্ছে।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট শারমিন আফরোজী শিল্পী বলেন, ‘আমরা এখন যে রোগী পাচ্ছি তাদের মারাত্মক সমস্যা। তারা শ্বাস না নেওয়ার পাশাপাশি কিছু খেতেই পারছে না। এটা একটা ভাইরাসজনিত রোগ। মূলত হুট করে ঠান্ডা এবং আবার হুট করে গরম আবহাওয়ার কারণে এই নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের হার বাড়ছে। আর যেহেতু এটি সংক্রামক ব্যাধি তাই শিশুদের জন্য খুব দ্রুত চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে।’
নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের লক্ষণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘শিশুর প্রচণ্ড জ্বর আসবে। কাশি হবে। খেতে চাইবে না। মিনিটে ৬০ বারের বেশি শ্বাস নেওয়া বা বুকের দুই পাশের পাঁজর নেমে যাওয়া। তাই কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়ামাত্র ফার্মেসি বা দোকানে না গিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক যারা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত তাদের থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে। শিশুকে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারেই সতর্ক থাকতে হবে।’ আর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পাড়া-মহল্লার ফার্মেসি থেকে ওষুধ না খাওয়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিক আমিন কাজল বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বাড়ছে। তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু ও বৃদ্ধরা। এ সময় শিশুদের জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, গরমে হওয়া বিভিন্ন চর্মরোগ, নিউমোনিয়া বেশি পাচ্ছি। গত কিছু দিনের দাবদাহে সমস্যাটা আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহের চেয়ে এখন দ্বিগুণ নিউমোনিয়ার রোগী ভর্তি রয়েছে।’
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘আবহাওয়াজনিত কারণে শিশুরা ঠান্ডাজনিত অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের হাসপাতালে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা প্রদানে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া আছে।’