নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৪৩ পিএম
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৪৫ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী আশ্রাফুল আজিম রুবেল। প্রবা ফটো
নোয়াখালীর চাটখিলে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর দুই কোটি টাকা মূল্যের তিনটি দোকান দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৭ আগস্ট চাটখিল বাজারের দোকানগুলো দখলে নেন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তাই এ ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ওই ব্যবসায়ী।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চাটখিল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন চাটখিল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাটখিল গ্রামের আশ্রাফুল আজিম রুবেল।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম আলাউদ্দিন ভূইয়া। চাটখিল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তিনি। ব্যবসায়ীর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আশ্রাফুল আজিম রুবেল বলেন, ‘৭ আগস্ট আমাকে আলাউদ্দিন ভূইয়া দোকান থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ভাড়াটিয়াদেরকে বলে এটা সরকারি জায়গা। বর্তমানে সরকার আমাদের, তাই এই দোকান এখন থেকে আমাদের। এরপর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নগদ ৪ লক্ষ টাকাও নিয়ে যায়। প্রতিদিন তাদের (দোকানের ভাড়াটিয়া) কাছ থেকে জোর করে দৈনিক হারে ভাড়া আদায় করে নেয়। পরে এ ব্যাপারে আমি গত ২২ আগস্ট চাটখিল থানায় অভিযোগ দায়ের করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের কাছে কোনো প্রতিকার না পেয়ে আমি গত ২ সেপ্টেম্বর সেনা ক্যাম্পে একটি অভিযোগ দায়ের করি। সেনা কর্মকর্তা আমার কাগজপত্র দেখে আমাকে বলে আপনার দোকানের ভাড়া আপনি যেভাবে আগে উঠাতেন সেভাবে এখনও উঠাবেন। পর দিন ৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে আমি আমার দোকানে ভাড়া উঠাতে গেলে বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন ও কোপিল উদ্দিন আমাকে মারধর করে এবং গুলি করে মারার হুমকি দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দেয়। আমার ভাড়াটিয়াদের থেকে দৈনিক হারে ভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ দেয়।’
এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘পরদিন আমি সেনাক্যাম্পে গেলে সেনা কর্মকর্তা পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয়। ওইদিন এএসআই আমজাদ হোসেন ঘটনাস্থলে এসে ভাড়াটিয়াদেরকে নির্দেশ দেয় আলাউদ্দিন ভূইয়া ও কোপিল উদ্দিন ভূইয়াকে ভাড়া না দেওয়ার জন্য। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর আমাদের উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় যেতে বলা হয়। আমরা উভয় পক্ষ থানায় হাজির হলে সেখানে আলাউদ্দিন ভূইয়া এটা সরকারি জায়গা প্রমাণ করতে পারেনি। তারপরও থানার কথা অমান্য করে দৈনিক আমার ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ভাড়া আদায় করে। বর্তমানে আলাউদ্দিন ভূইয়া আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে আমরা সাংবাদিক সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি।’
এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়ে আশ্রাফুল আজিম বলেন, ‘আমাদের দোকানের মালিকানার সকল প্রমাণ ও কোর্টের আদেশ আমাদের কাছে আছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে তিনটি দোকান করে ভাড়া দিয়েছি। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাদের দোকানঘর দখল করেছে আলাউদ্দিন ভূইয়া। আমি থানায় ও আর্মী ক্যাম্পে অভিযোগ দেওয়ার পর ওই নেতা নানাভাবে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই জবরদখলকারী বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন ভূইয়া ও কোপিল উদ্দিন ভূইয়া হাত থেকে বাঁচতে আমি তারেক রহমান স্যারের হস্তক্ষেপ চাই।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন ভুইয়া বলেন, ‘আমি কখনো এমন কাজ করিনি। আমি কেমন তা সব দলের মানুষ জানে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এমন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’
থানায় অভিযোগের বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল হক বলেন, ‘ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগ আমরা পেয়েছি। যেহেতু জায়গা জমি সংক্রান্ত তাই আদালতের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। তারা থানায় বসতে চাওয়ায় তাদের উভয় পক্ষের সঙ্গে একটা বৈঠক হয়েছে। তবে সেটি অমিমাংসিত ছিল। আসলে জায়গা জমির বিষয়ে পুলিশের কিছু করার নাই। তাই আমরা আদালতের আশ্রয় নিতে বলেছি।’