খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:২৮ পিএম
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৫৫ পিএম
খুলনার ময়ূর নদ খনন ও সংরক্ষণের দাবিতে মার্চ টু ময়ূর রিভার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক নদী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। নগরীর গল্লামারীস্থ লায়নস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে মার্চ শুরু হয়ে ময়ূর নদের পাড়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়। নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচলে দেশ ও মানুষ বাঁচবে স্লোগানে এবং আন্তঃসীমান্ত নদীতে আমাদের অধিকার দাবিতে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জাতীয় পরিষদ সদস্য ও খুলনা শাখার সমন্বয়কারী মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার।
বৃহত্তর
খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান, খুলনা প্রকৌশল
বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা অনুষদের অধ্যাপক তুষার কান্তি রায়,
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের
সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা আহ্বায়ক জনার্দন দত্ত নান্টু, গণসংহতি আন্দোলনের
জেলা আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ খুলনার সদস্য সচিব সুতপা
বেদজ্ঞ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান
মুকুল, দক্ষিণ অঞ্চল উন্নয়ন পরিষদের মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন হাওলাদার,
খুলনা উন্নয়ন আন্দোলনের সভাপতি শেখ নাসির উদ্দিন প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে সারা দেশের ন্যায় খুলনাঞ্চলের নদীগুলোও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। অনেক নদ-নদী রুগ্ণ অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। খুলনা মহানগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ময়ূর নদটিও মৃতপ্রায়। প্রায় তিন যুগ ধরে নদীটি রক্ষায় বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম হয়ে আসছে। খুলনা সিটি করপোরেশন একাধিকবার প্রকল্প গ্রহণ করলেও তা অপরিকল্পিত হওয়ায় এবং দুর্নীতি ও স্বচ্ছতা, জবাবদিহির অভাবে বিশেষ করে প্রকল্পগুলো বিজ্ঞানসম্মত না হওয়ায় রাষ্ট্র তথা জনগণের অর্থ লুটপাট ও অপচয় হয়েছে।
তারা আরও
বলেন, স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থাকে বিবেচনায় না নিয়ে, লোকায়ত জ্ঞানকে পাশ কাটিয়ে বিদেশি
প্রেসক্রিপশনে অবাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণ অনেকাংশে দায়ী। ময়ূর নদকে রক্ষা করতে
হলে এ নদসংযুক্ত হাতিয়া, ক্ষেত্রখালীসহ প্রায় ২২ কিলোমিটার নদী খনন, সংযুক্ত
খালসমূহ পুনরুদ্ধার, এ নদের উৎসস্থল বিল ডাকাতিয়াকে অবমুক্ত ও জলাবদ্ধতা নিরসন, এ
নদের মিলিতস্থলে নির্মিত স্লুইসগেট নিয়মিত পরিচালনা বা সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক
গেটগুলো স্থায়ীভাবে অবমুক্ত করা, খননকৃত মাটি-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাস্তবসম্মত
ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় স্বল্প-মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি
প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় এ অঞ্চলের পরিবেশ প্রকৃতির ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার
আশঙ্কার কথাও জানান বক্তারা।