প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৫০ পিএম
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৫০ পিএম
বাউফলে আকস্মিক ঝড়ের নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী কামিল মাদ্রাসার টিনশেড ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। প্রবা ফটো
দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। উপড়ে গেছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও অসংখ্য গাছপালা। জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর…
চরফ্যাশন (ভোলা) : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাটে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ঘরচাপায় ইয়ানুর বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়ন চরতোফাজ্জল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নুরাবাদ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সুমন হাওলাদার।
নিহত ইয়ানুর বেগম পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের বাসিন্দা জাফরের স্ত্রী। উপজেলার চরতোফাজ্জল গ্রামের বাসিন্দা মৃত আবদুল অদুদের মেয়ে তিনি। নিহতের মা বিবি আয়শা জানান, গত শুক্রবার রাতে খাবার খেয়ে ইয়ানুর ও তার সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে যাই। রাত ৩টার দিকে আকস্মিক ঝড়ে বসতঘর ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ঘরচাপায় ঘটনাস্থলে ইয়ানুরের মৃত্যু হয়। ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাদের চারজনকে জীবিত উদ্ধার করে।
দুলারহাট থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান,
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর
করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালেক মূহিত জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির
মাধ্যমে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জেলা প্রশাসককে জানানো হবে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ
করা হবে।
বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় গাছের ডাল ভেঙে এক নারীর মৃত্যু
হয়েছে। শনিবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার হিন্দুকান্দি পুলিশ লাইনস বাঁধ এলাকায়
এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম ওয়াহেদা বেগম। তিনি ওই এলাকার মৃত
সাহেব আলীর স্ত্রী। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সারিয়াকান্দি থানার ওসি জামিরুল ইসলাম। তিনি
জানান, বাড়ির ভেতরে খড়ি কুড়াচ্ছিলেন ওয়াহেদা বেগম। আকস্মিক ঝড়ে ইউক্যালিপটাস গাছের
ডাল তার মাথার ওপরে পড়লে গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক
মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের লোকজনদের কাছে হস্তান্তর করা
হয়েছে।
লালমোহন (ভোলা) : ভোলার লালমোহন উপজেলায় বেশ কিছু বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা
লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে হঠাৎ করেই বাতাসের প্রচণ্ড বেগে
আঘাত হানে ঝড়টি। ওই ঝড়ে গাছ উপড়ে এবং বাতাসের তীব্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭০টি বসতঘরসহ
বিভিন্ন স্থাপনা। এর মধ্যে ২০টি বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে
৫০টি বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনার। এ ছাড়া ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুৎ ও ফসলের।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ
ঘোষ বলেন, ‘শুক্রবার রাতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ৭০টি বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা আংশিক এবং
পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি ফসল এবং বিদ্যুতেরও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির
তালিকা প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হবে। বরাদ্দ পেলে তা দ্রুতসময়ের মধ্যে
ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’
বাউফল (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর বাউফলে আকস্মিক ঝড়ের ১০ মিনিটের তাণ্ডবে তিন শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক এ ঝড়ের তাণ্ডবে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ে ঘর ও গাছের নিচে পড়ে কমপক্ষে আটজন আহত হাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী
কামিল মাদ্রাসার একটি টিনশেড ভবন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। কালাইয়া, নাজিপুর, নওমালা
ও কেশবপুর এলাকায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নওমালা গ্রামে ঘরের ওপর গাছ
পড়ে সমির চন্দ্র শীল ও সাথী রানী শীল নামে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা পটুয়াখালী
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ছাড়াও সড়কের ওপর গাছপালা উপড়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা গাছ কেটে সড়ক যোগাযোগ স্বভাবিক করার চেষ্টা করছে। গত শুক্রবার রাত থেকে উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
পটুয়াখালীর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল
অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. মজিবুর রহমান জানান, ঝড়ের কবলে পরে ৮টি
বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক স্থানে সঞ্চালনের
তার ছিঁড়ে পড়েছে। আমাদের কয়েকটি টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। বিদ্যুৎ লাইন চালু হতে দুই
থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির
গাজী বলেন, ‘ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যেই বিধ্বস্ত তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের
তালিকা করা হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।’