× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বছর না ঘুরতেই মহাসড়ক যেন ছেঁড়াকাঁথা

শাহিনুর সুজন, চারঘাট (রাজশাহী)

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:৩৫ এএম

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:৪৫ এএম

রাজশাহীর বানেশ্বর থেকে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের বর্তমান চিত্র। প্রবা ফটো

রাজশাহীর বানেশ্বর থেকে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের বর্তমান চিত্র। প্রবা ফটো

রাজশাহীর বানেশ্বর থেকে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। সময়ের বিচারে এখনও এক বছর হয়নি। ঠিকাদাররা কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার আট মাসের মধ্যেই মহাসড়কের অবস্থা বেশ নাজুক। কিছু অংশ ফুলে উঠেছে, আবার কিছু অংশ দেবে গেছে। প্রকৌশলীদের ভাষায় ফুলে ওঠাকে ‘রাটিং’ বলে, আর দেবে যাওয়াকে ডিপ্রেশন বলে। বছর না ঘুরতেই প্রায় ৫৫৪ কোটি টাকার সড়কের বেহাল অবস্থায় চক্ষু চড়কগাছ। আর ছোট-বড় দুর্ঘটনা তো রয়েছেই।

রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর থেকে চারঘাট-বাঘা-নাটোরের লালপুর হয়ে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত এই সড়কের দৈর্ঘ্য ৫৪ কিলোমিটার। ১৮ ফুট চওড়া সড়কটি হয়েছে ৩৪ ফুট। মহাসড়কের প্রশস্তকরণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। পরবর্তীকালে আরও এক বছর সময় বাড়িয়ে কাজ শেষ হয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। সাতজন ঠিকাদার সাতটি প্যাকেজে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। 

রাজশাহী শহরের সাথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগের এ মহাসড়কের দুই পাশে তিন ফুট করে ছয় ফুট করে রাখা হয়েছে ফুটপাত। পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। বাজার এলাকায় পানি জমে এ রকম জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে ঢালাই সড়ক। এত ব্যয়বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বছর না ঘুরতে বেহাল অবস্থার জন্য নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা বলছেন, এ অবস্থার পেছনে নির্মাণ ত্রুটি দায়ী নয়। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণের পরবর্তী দুই বছর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো বিনা খরচে মহাসড়কের ত্রুটিগুলো মেরামত করার জন্য চুক্তিবদ্ধ রয়েছেন। এজন্য চুক্তি অনুযায়ী তারা মেরামত করছেন।

সরেজমিন আঞ্চলিক এ মহাড়কের ৫৪ কিলোমিটার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সড়কের চারঘাট, বাঘা ও লালপুর উপজেলার অন্তত ৩০ জায়গায় রাটিং ও ডিপ্রেশন ছোট পাথর, বালি ও বিটুমিন দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। এতে নতুন সড়কে ‘ছেঁড়াকাঁথার’ মতো জোড়াতালি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

চারঘাট উপজেলার হেলালপুর গ্রামের মুকবেল হোসেন বলেন, ২০২০ সালে সড়কের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিন বছর সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছিল। এতে এলাকাবাসীর চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বাজারের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঠিকাদার দায়সারাভাবে কাজ করেছে। তারপরও ২০২৩ সালের শেষের দিকে কাজ শেষ হলে আমরা একটু হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম। কিন্তু ছয় মাস না যেতে সড়ক দেবে গেছে। এখন দেখি প্রায়ই বিটুমিন, পাথর, বালু নিয়ে মেরামতের কাজ চলছে।

বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী আজিজুল হক বলেন, এই সড়ক দিয়ে দিন-রাত দক্ষিণ অঞ্চলের পাথর ও খাদ্যপণ্য বোঝাই গাড়িগুলো চলাফেরা করে। নতুন সড়কের বিভিন্ন জায়গায় দেবে গেছে, আবার কোথাও ফেটে উঁচু হয়ে গেছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। 

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চারঘাট উপজেলার সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করে কাজও বন্ধ রাখতে পারিনি। ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন লোকজন ঠিকাদারকে পাথর, বালু সরবরাহ করায় তারা ক্ষমতা খাটিয়ে নিম্নমানের কাজ শেষ করেছে। এখন বছর না ঘুরতেই সড়কটি ছেঁড়া কাঁথায় পরিণত হয়েছে। 

বানেশ্বর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজওয়ানা করিম বলেন, ওভারলোড কিংবা অতিরিক্ত গরম পড়লে সড়কে রাটিং ও ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হয়। তবে দুই বছরের মধ্যে ওই সড়কের কোনো সমস্যা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার তা ঠিকঠাক করতে বাধ্য থাকবে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো পরিদর্শন করে সড়ক যেন টেকসই হয় সে ব্যবস্থা নেব।

রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাকিম বলেন, সড়কের কাজে কোনো অনিময় হয়নি। আন্দোলনের সময় টায়ার জ্বালানোর কারণে সড়ক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ ছাড়াও সড়কটি যেন আরও টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হয় এ জন্য কিছু সংস্কার করা হচ্ছে। তবে সড়কে ওভারলোডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ওভারলোড কমাতে কাজ চলছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা