× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জলাবদ্ধ বিলে সবুজ বিপ্লব

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:১১ পিএম

যশোরের কেশবপুর উপজেলার বিল খুকশিয়ায় মাচা তৈরি করে চলছে গ্রীষ্মকালীর তরমুজ চাষ। প্রবা ফটো

যশোরের কেশবপুর উপজেলার বিল খুকশিয়ায় মাচা তৈরি করে চলছে গ্রীষ্মকালীর তরমুজ চাষ। প্রবা ফটো

যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে শ্রীহরি নদীর তীরে সুফলকাটি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে অবস্থিত একটি বিলের নাম বিল খুকশিয়া।

পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় গত ১৮ বছর ধরে বিলটি ছিল জলাবদ্ধ অবস্থায়। পানির কারণে চাষাবাদ বন্ধ থাকায় এ এলাকার কৃষকদের ছিল দুর্বিষহ জীবন। এ অবস্থায় এগিয়ে আসে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাদের সহযোগিতায় বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর বিলজুড়ে মৎস্য চাষিরা খণ্ড খণ্ড এলাকা নিয়ে মাছের ঘের তৈরি করেন। একসময়কার জলাবদ্ধ বিলের পানিতে এখন হয় হরেক রকমের মাছের চাষ।

বিলে শুধু মাছ চাষেই থেমে নেই স্থানীয় কৃষকরা। মাছের ঘেরের ওপর মাচা তৈরি করে চাষাবাদ করছেন গ্রীষ্মকালীন তরমুজের। কৃষকদের দেখে উৎসাহিত হয়ে এখন স্থানীয় অনেকেই ঝুঁকছেন তরমুজ চাষে। যেখানে কৃষকদের প্রথম প্রত্যাশা ছিল ঘের তৈরি করে মাছ উৎপাদন, এখন সেখানে ঘেরের ওপর মাচা দিয়ে তরমুজ চাষই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ যেন মাছের ঘেরের পানির ওপর তরমুজ চাষে বিপ্লব ঘটেছে। 

বর্তমানে বিলপাড়ের তিন শতাধিক কৃষক ঘেরের পাড়ে পানির ওপর মাচা তৈরি করে চাষ করছেন গ্রীষ্মকালীন তরমুজের। যতদূর চোখ যায়, শুধু তরমুজ আর তরমুজ। তরমুজ চাষে বিল পাড়ার কানায়ডাঙ্গা, আড়ুয়া, কাঁকবাধাল, সারুটিয়া, গৃধরনগর, হাড়িয়া ঘোপ, ডহুরী, বালিয়াচরণপুরও নারায়ণপুরসহ প্রায় দশটি গ্রামের চাষিদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এসেছে। সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে কেশবপুরের বিল খুকশিয়ায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

তরমুজ চাষি তানসেন গাজী বলেন, এ বছর চার বিঘা জমির ঘেরের পাড়ে তরমুজ চাষ করেছি। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি হবে আশা করি। ঘেরের পানিতে চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ বিক্রি হবে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার। ঘেরের পাড়ে চাষ হয় টমেটো ও ঝিঙা। তা থেকেও ৫০ হাজার টাকার অধিক আয় হবে বলে জানান এ কৃষক।

কৃষক মিলন হোসেন বলেন, প্রায় সাত বিঘা ঘেরের ভেড়িতে তরমুজ চাষ করেছি। এ বছরে অন্তত তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে। গাছ লাগানোর মাত্র ৯০ দিনের মাথায় স্বল্প খরচে তরমুজ আবাদে কয়েক গুণ লাভ করা সম্ভব। এ পর্যন্ত ৭০ মণ তরমুজ প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এখনও গাছে প্রচুর তরমুজ রয়েছে। খরচ বাদে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ হবে। তা ছাড়া ঘেরের পানিতে যে মাছ আছে তা থেকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় হবে।

তরমুজ ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিল খুশকিয়ার ঘাট থেকে প্রতিদিন একশ থেকে দেড়শ মণ তরমুজ কিনে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাই। এখন প্রতি মণ তরমুজ চোদ্দশ থেকে পনেরশ টাকা দরে কিনি। আমার মতো আরও অনেকেই এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শুধু তরমুজ না, এসব ঘেরে ও ঘেরের পাড়ে চাষাবাদ করা হয় হরেক রকমের মাছ ও বিভিন্ন জাতের সবজি।

এ বিষয়ে কেশবপুব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, যশোর জেলার কেশবপুরের বিল খুকশিয়া শ্রীহরি নদীর তীরে সুফলকাটি ইউনিয়নে মাছ চাষ ও তরমুজ চাষে বিপ্লব ঘটেছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সাধ্যমতো সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। আশা করছি আগামীতে এ এলাকাজুড়ে মাছ, তরমুজ ও সবজি চাষে আরও বিপ্লব ঘটবে। যার মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে আরও সমৃদ্ধি আসবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা