× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পা গেছে, আঙুল গেছে, জীবনটাও কি যাবে আর্সেনিকে

মাগুরা সংবাদদাতা

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২২ ১৮:০৭ পিএম

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৪০ পিএম

ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আর্সেনিক আক্রান্ত মো. দাউদ খন্দকারের একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে। ছবি : প্রবা

ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আর্সেনিক আক্রান্ত মো. দাউদ খন্দকারের একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে। ছবি : প্রবা

মাগুরা পৌরসভার আবালপুর গ্রামে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পাঁচ হাজার পরিবার। তাদের অধিকাংশই আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে কর্মহীন আবস্থায় দিন পার করছে। বছর দশেক আগে গ্রামটিতে আর্সেনিক শনাক্ত হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। 

সরজমিনে দেখা গেছে, ৫০ বছর বয়সী মো. দাউদ খন্দকার ভগ্নমনে বসে আছেন। তার হাতে-পায়ে শক্ত শক্ত ঘা। ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তার একটি পা ও ডান হাতের দুটি আঙ্গুল কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এতেই তিনি রক্ষা পাবেন সেই নিশ্চয়তা নেই।

দাউদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ডাক্তার কইছে আমার শরীলে এহনও ৬০ পার্সেন্ট আর্সেনিক রইছে। না জাইনে আর্সেনিক পানি খাইছি। এতে পাউ গেছে, হাত গেছে। এহন জীবনটাও…আইজ আমি মিত্যুর পথে। বাঁচপো কিনা জানিনে।’

তার মতোই আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে তার ভাই মারা গেছেন বলে তিনি জানান।


মো. দাউদ খন্দকার। ছবি : প্রবা

আবালপুর গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে টিউবয়েল রয়েছে। পানি পরীক্ষা করা হলেও আর্সেনিক শনাক্ত হওয়া টিউবলেগুলো লাল করে রাখা হয়নি।

নজরুল ইসলাম নামে একজন গ্রামবাসী বললেন, তার পরিবারের সবাই আর্সেনিক আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসায় অন্যরা সেরে উঠলেও তার দুই বছর বয়সী মেয়ে এখনও অসুস্থ। 

এই পানি দিয়েই কৃষিকাজ করেন গ্রামের চাষিরা। এ কারণে ফসলেও আর্সেনিক থাকার কথা, যা গ্রামের সাধারণ মানুষও অবগত রয়েছে। মো. শাহিন রেজা নামে একজন কৃষক বলেন, ‘আমি কৃষি কাজ করি। এই পানি দিয়ে আমি ক্ষেতে ধান ও সবজি উৎপাদন করি। এই পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক থাকায় ফসলেও আর্সেনিক থাকার সম্ভাবনা আছে।’

পৌরসভার মেয়র খুরশীদ হায়দার টুটুল বিষয়টি অবগত রয়েছেন।

তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আবালপুর গ্রামে টিউবয়েলের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে আছে। আমরা প্রকল্প তৈরি করে যত দ্রুত সম্ভব এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ করব।’

কত দিনে প্রকল্প তৈরি হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

মাগুরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. বাসারুল ইসলামও এ বিষয়ে কোনো আশার আলো দেখাতে পারেননি। কয়েক বছর আগে গভীর নলকূপ বসানো হয়েছিল। তাতে পানযোগ্য পানি পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রকৌশল বাসারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা দশমিক শূন্য ৫ মিলিগ্রাম। আমরা আবালপুর গ্রামের পানিতে আনেক বেশি আর্সেনিকের উপস্থিতি পেয়েছি। তাই কয়েক বছর আগে গভীর নলকূপ বসিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় তাও খাওয়ার প্রায় অনুপযুক্ত।’

পৌরসভার পাইপলাইন সম্প্রসারিত করে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা যেতে পারে বলে অভিমত দেন এই প্রকৌশলী।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা