× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সবুজ পাহাড় এখন জুমের সোনালি ধানে রঙিন

সুফল চাকমা, বান্দরবান

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:৪৬ পিএম

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:০১ পিএম

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের কমলা বাগানপাড়ায় জুমের পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত জুমচাষিরা । প্রবা ফটো

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের কমলা বাগানপাড়ায় জুমের পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত জুমচাষিরা । প্রবা ফটো

পার্বত্য এলাকার সবুজ পাহাড় এখন সোনালি রঙে রঙিন। যতদূর দৃষ্টি যায় বিশাল সবুজ পাহাড়ে জুমের পাকা সোনালি ধান। পাহাড়ের ঢালু ভূমিতে উৎপাদিত জুমচাষের ধান কাটার সময় এখন। শুরুও হয়েছে জুমিয়াদের ব্যস্ত সময়। পাকা ধানের রঙে সবার মুখে হাসি। এ বছর দেরিতে বৃষ্টি হওয়ায় জুমের ধান বপনে সময়ের ব্যবধান বেশি ছিল। তাই কেউ এখন ধান কাটা শুরু করেছেন, কোথাও ধান এখনও সবুজ, কোথাও ধান পাকা শুরু হয়েছে।

ধান পাহারা দিতে চাষিরা সপরিবারে জুম ক্ষেতে উঠেছেন। কেউ ধান কাটার আগে সাথী ফসল মিষ্টিকুমড়া, ভুট্টা, শসা ও চিচিঙ্গা সংগ্রহ করছেন। তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম এলাকাগুলোয় বর্তমানে জুমচাষ ঘিরে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। দম ফেলার ফুরসত নেই জুমচাষিদের।

বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ১১ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের জীবনাচারও ভিন্ন ভিন্ন। এমনকি চাষাবাদ পদ্ধতিও আলাদা। সমতলের জমিতে হালের বলদ বা আধুনিককালের কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ হয়। কিন্তু পাহাড়ি জনগোষ্ঠী পাহাড়ের ঢালু জায়গায় প্রকৃতিনির্ভর চাষাবাদ করেন। এই চাষে সেচ দেওয়া লাগে না। প্রাকৃতিক রোদ-বৃষ্টি যা হয় তাতেই ফসল ফলে। নির্দিষ্ট সময়ে পাহাড়ের বনজঙ্গল কেটে রোদে শুকিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে, উঁচু পাহাড়ের ঢালু ভূমিতে ধানসহ প্রায় ৩৫ প্রকার সাথী ফসল উৎপাদনের পদ্ধতিকে জুমচাষ বলা হয়ে থাকে। 

শহরের কাছাকাছি এখন বড় জুমচাষ চোখে পড়ে না, যার দেখা মেলে শহর থেকে অনেক দূরে। জেলা শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়ন। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কমলা বাগানপাড়ার বাসিন্দা জুমচাষি মিলন ত্রিপুরা (৪০) সপরিবারে এবং শ্রমের বিনিময়ে কাজ করা একদল নারী-পুরুষ নিয়ে জুমের পাকা ধান কাটছে। তিনি জানান, এ বছর ১২ আড়ি (১ আড়ি সমান ১০ কেজি) ধানের জুম করেছেন। ধান তেমন ভালো হয়নি। যখন বৃষ্টির দরকার, তখন বৃষ্টি হয়নি। যখন রোদ দরকার তখন অতিবৃষ্টি। সময়মতো রোদ-বৃষ্টি হলে জুমের ধান ভালো হতো। এখন রোদ-বৃষ্টির সময় পাল্টে গিয়ে প্রকৃতিও ভিন্ন আচরণ করছে। 

তিনি আরও জানান, চলতি বছর ২০০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা করছেন। যদি ফলন ভালো হতো তাহলে ৩০০ আড়ি ধান পেতেন। অনেকেরই জুম এ বছর ভালো হয়নি; যা ভালো হয়েছিল ধান কাটার উপযুক্ত সময়ে টানা ৪-৫ দিন বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জুমচাষির পাকা ধান নষ্ট হয়েছে। আগামী বছর খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলেও জানান তিনি।

পুষ্পরানী ত্রিপুরা (১৮) জানান, তারাও জুমচাষ করেছেন কিন্তু তাদের জুমের ধান এখনও কাটার উপযুক্ত হয়নি। তাই তাদের প্রতিবেশীর পাকা ধান শ্রমের বিনিময়ে কাটতে সহযোগিতা করছেন। কিছুদিন পর তাদের জুমের ধান কাটার উপযুক্ত হলে তারাও সহযোগিতা পাবেন।

প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বরে জুমের জায়গা নির্ধারণ হয়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি চাষের জন্য নির্ধারিত জায়গায় জঙ্গল কাটা হয়। কাটা জঙ্গল রোদে শুকানোর পরে মার্চ-এপ্রিলে প্রথমে ফায়ারিং লাইন করে জঙ্গল পোড়ানো হয়। এপ্রিল মাসজুড়ে জুমের জায়গা পরিষ্কার করে ধান বপনের জন্য প্রস্তুত করে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে সবাই। বৃষ্টি হলেই জুমের জায়গায় ধানসহ সাথী ফসল বপন হয়। যারা বৈশাখ মাসের প্রথম বৃষ্টির পর জুমে ধানসহ সাথী ফসল বপন করতে পারেন, তাদের ধান আগে পাকা শুরু করে। যারা একটু দেরিতে বপন করেন তাদের ধান দেরিতেই পাকে। প্রতি বছর আগস্ট মাসের শেষে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে জুমের ধান কাটা শুরু হয়। অক্টোবর পর্যন্ত ধান মাড়াই ও শুকানোর প্রক্রিয়া চলে। ধান শুকানো শেষে জুমঘর থেকে মূলঘরে ধান স্থানান্তর করার পর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে ঘরে ঘরে জুম ধানের নবান্ন উৎসব। 

জুমচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক জায়গায় প্রতি বছর জুমচাষ করা যায় না। এক বছরে একবার এক জায়গায় জুমচাষ করার পর কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ফেলে রাখতে হয় মাটি উর্বর হওয়ার জন্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ হাসান আলী বলেন, বান্দরবানে চলতি বছর আট হাজারের বেশি জায়গায় জুমের আবাদ হয়। জুমে ধান ছাড়াও সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। পার্বত্য অঞ্চল হওয়ার কারণে বৃষ্টি সব জায়গায় সমানভাবে বৃষ্টিপাত হয় না; যার কারণে উৎপাদনে তারতম্য হয়। ইতোমধ্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলার থানচি উপজেলায় জুমের ধান কাটা শুরু হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায়ও জুমের ধান কাটা শুরু হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা