ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:১৯ পিএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৯ পিএম
হরিপুর বিএনপির আয়োজনে জনসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রবা ফটো
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আমাদের আমানত। আর আমানতের খেয়ানত যারা করে তারা মোমিন না।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও হরিপুর বিএনপির আয়োজনে শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর আমরা এখন মুক্ত স্বাধীন। এ স্বাধীনতা ততক্ষণ থাকবে যতক্ষণ আমরা তা ধরে রাখতে পারব। আমাদের দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সবাই মিলেমিশে বসবাস করব, তারা আমাদের আমানত। সামনে দুর্গা পূজা আসছে। তাদের জানমাল নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। কারণ তারা আমাদের আমানত। আমানতের খেয়ানত যারা করে তারা মোমিন না। তাদের যেন কেউ ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে আমাদের লক্ষ রাখার কথাও বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আন্দোলনে খুনি হাসিনা হাজার হাজার মানুষ খুন করেছেন, বিএনপি নেতা, ছাত্র-জনতাকে নির্যাতন করেছেন। নির্যাতনের আয়নাঘর বানিয়েছেন। মনে রাখবেন, সীমা লঙ্ঘনকারীকে আল্লাহ্ পছন্দ করেন না। তিনি যখন যাকে চান আমির বানান আবার যখন যাকে চান ফকির বানান।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আগস্ট মাসের ৪ তারিখে চিন্তাও করতে পারিনি ৫ তারিখে রাস্তায় এত মানুষ নেমে আসবে আর হাসিনার পতন ঘটাবে। সব শেষে জনতার ভয়ে হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, কারও ওপর অন্যায় নির্যাতন করবেন না। নয়তো আওয়ামী লীগের মতো পরিণতি হবে। আপনারা কেউ তা চান না। যেমন হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে করুণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সামনে নির্বাচন হবে। কবে হবে তা জানি না। তবে এটা ঠিক আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনের সিস্টেমকে ধ্বংস করে দিয়েছে। যার কারণে আপনারা কেউ এতদিনে ভোট দিতে পারেননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সবাই ভালো মানুষ ও নিরপেক্ষ মানুষ। কোনো দলের রাজনীতি করেন না। আপনারা ধৈর্য ধরেন সবাই শান্ত থাকেন। আপনাদের দাবি এখানে যেন আমরা ধানের শীষ প্রতীক দেই। কাজেই ধানের শীষকে শক্তিশালী করেন। কারণ নির্বাচন সামনে আসছে। আমরা দেশকে ভালো রাখার সুযোগ যেন না হারাই।
এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লড়াই সংগ্রামে ত্যাগের কথা তুলে ধরেন এবং তাদের জন্য দোয়া চান।
জনসভায় তীব্র রোদ উপেক্ষা করে ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় ভরপুর ছিল। জেলা, উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মী ও বিএনপি সমর্থিত ছাত্র-জনতা দলে দলে এসে যোগদান করেন।
জামার উদ্দীনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন হরিপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিনসহ অন্য নেতারা।