নারায়ণগঞ্জ (শহর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৪:৪৯ পিএম
বুধবার সকালে প্রথমে যেখানে ত্বকীকে অপহরণ করে যেখানে হত্যা করা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই স্থান পরিদর্শন করেছে র্যাব। প্রবা ফটো
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে যেখানে অপহরণ, হত্যা ও তার মরদেহ উদ্ধারের স্থানসহ প্রতিটি জায়গা পরিদর্শন করেছে র্যাব।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথমে যেখানে ত্বকীকে অপহরণ করে যেখানে হত্যা করা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে, কলেজ রোডে অবস্থিত আজমেরী ওসমানের বাসার পাশের সেই ভবনে ও উইনার ফ্যাশন পরিদর্শন করে তারা। আজমেরী ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার সাফায়াত হোসেন শিপনও র্যাবের সঙ্গে ছিল।
বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন শেষে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধারের স্থান পরিদর্শন শেষে র্যাব-১১ এর কমান্ডিং অফিসার তানভীর মাহমুদ পাশা বলেন, আপনারা জানেন ২০১৩ সালে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এই মামলার তদন্তভার দীর্ঘদিন ধরে র্যাবের কাছে রয়েছে। তদন্তের শুরুতে বেশ কিছু অগ্রগতি ছিল, মাঝখানে কিছুদিন স্থবির হয়ে থাকার পরে আমরা পুনরায় তদন্তে গতি পেয়েছি। কারণ হচ্ছে, র্যাব হেডকোয়াটার্সের সহায়তা পাচ্ছি। র্যাব হেডকোয়াটার্সের তদন্ত শাখা এবং গোয়েন্দা শাখাও আমাদের ব্যাটালিয়নকে সহায়তা করছে। এবং আমরা গাইডলাইন পাচ্ছি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এরমধ্যে একজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তার জবানবন্দি এবং অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। ত্বকীকে যেখানে কিডন্যাপ করা হয়, যেখানে হত্যা করা হয় এবং যেখানে তার মরদেহ পাওয়া যায়, প্রত্যেকটি জায়গায়ই আমরা পরিদর্শন করছি তদন্তের স্বার্থে। মামলার তদন্ত অফিসারসহ আমরা সবাই এখানে এসেছি। আশা করছি একটি সুষ্ঠু রিপোর্ট আমরা দ্রুতই জমা দিতে পারব।
এর আগে ১০ দিনে এ হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইয়ার মাহমুদ পারভেজ, সাফায়েত হোসেন শিপন, মামুন মিয়া, কাজল হাওলাদার ও জামশেদ শেখ নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তার সবার নারায়ণগঞ্জের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে র্যাব জানিয়েছে। তাদের মধ্যে জামশেদ শেখ আজমেরী ওসমানের ব্যক্তিগত গাড়িচালক।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খান রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। ঘটনার দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় র্যাব-১১কে। পরে র্যাবের তদন্তে ত্বকী হত্যায় নারায়ণগঞ্জের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমান এবং তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ পায়।