নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৯:৫২ এএম
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০:১৪ এএম
তাফিকুল ইসলাম রাফি
দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা তাফিকুল ইসলাম রাফি। পড়েন স্থানীয় বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে। শখ করে নদীতে ইলিশ শিকার দেখতে যাওয়াই কাল হলো তার। বৈরী আবহাওয়ায় ট্রলার ডুবে নিখোঁজ ছিল দুইদিন। রাফি ড্রাম ধরে দুইদিন নদীতে ভেসে ছিল।
রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তাদের নদী থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেলেরা। তারপর তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। রাফি ভয় পেয়ে আস্তে আস্তে কথা বলছেন বলে জানান তার মামা আব্দুর রহমান রাসেল।
তিনি বলেন, ইলিশ মাছ শিকার দেখতে আমার ভাগিনা রাফি সাগরে যায়। ফেরার পথে তার ট্রলার ডুবে যায়। তারপর সে দুদিন নিখোঁজ ছিল। স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। রাফি ড্রাম ধরে দুদিন নদীতে ভেসে ছিল। সে অনেক ভয় পেয়েছি। স্বাভাবিক কথা বলতে পারছে না। তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে।
রাফির বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, রহিম মাঝির ট্রলারে শখ করে আমার ছেলে যায়। ট্রলারে ২০ জন মানুষ ছিল। আমার স্ত্রী সন্তানের শোকে দুইদিন অজ্ঞান ছিল। কোনো খাওয়া দাওয়া নাই। অবশেষে আল্লাহর রহমতে তাকে পাওয়া গেছে। আল্লাহ আমার মানিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন তার জন্য শুকরিয়া। এভাবে সবার সন্তান যেন ফেরত আসে সেই দোয়া করি।
হাতিয়ার মৎস্য ব্যবসায়ী লুৎফুল্লাহিল নিশান বলেন, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ২১টি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এতে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৭ জন জেলে। উদ্ধার হওয়া জেলেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ড্রাম ধরে ভেসে ছিলেন সাগরে।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের পল্লী চিকিৎসক বেলাল হোসেন বলেন, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে অনেক জেলে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা আমরা দিয়েছি। পানিতে দীর্ঘ সময় থাকায় তারা অনেকে লবন পানি খেয়েছেন। তারা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে।
হাতিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মিল্টন চাকমা বলেন, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা খবর নিচ্ছি যেনো তাদের দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।