গোবরাতলা পাবলিক লাইব্রেরি
মেহেদী হাসান শিয়াম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:৪২ পিএম
গোবরাতলা পাবলিক লাইব্রেরি। প্রবা ফটো
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরির ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণের তিন বছর কেটে গেলেও পড়ার কোনো বই নেই। ফলে পাঠাগারের জন্য নির্মিত ঘরটি ফাঁকা পড়ে থাকছে। স্থানীয়রা বলছেন, পাঠাগারটিতে বই নেই তাই নিয়মিত খোলা হয় না। বইয়ের ব্যবস্থা হলে এখানকার শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পাবে।
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর অবৈধ স্থাপনা ছিল গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর মোড়ের কিছু অংশ। উপজেলা প্রশাসন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। পরে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরি’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় পাঠাগারের জন্য ৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৭ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাগারটি উদ্বোধন করেন গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আসজাদুর রহমান (মান্নু)। তবে বই কেনার জন্য কোনো বরাদ্দই নেই পাঠাগারটিতে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পাঠাগারের ঘরটি দীর্ঘদিন আগে নির্মাণ করা। তারপর থেকেই বন্ধ দেখা যায়। সরকারের তরফ থেকে ঘরটি নির্মাণ করা হলেও বই নেই এখানে। যার কারণে নিয়মিত খোলা হয় না। বছরে বেশ কয়েকবার শিক্ষার্থীরা উদ্যোগ নিয়ে ঘরের তালা খুললেও পড়ার জন্য তাদের আনতে হয় বই। পাঠাগারে বই থাকলে, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়তে আসবে। দৈনিক পত্রিকাগুলো এখানে রাখা হলে অনেকেই আসবে খবরাখবর জানতে। কিন্তু এসবের কিছুই নেই।
নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মো. মাহিনুর রহমান মাহিন বলেন, লাখ লাখ টাকা খরচ করে পাঠাগারটি তৈরি করা হয়। কিন্তু এখানে কোনো বই নেই। যার কারণে পাঠাগারটি নিয়মিত খোলা হয় না। বই জোগানের পাশাপাশি পাঠাগারটি নিয়মিত খোলার জন্য একজন লোক প্রয়োজন। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ালেখা করতে পারে।
আসাদুজ্জামান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পাঠাগারের জন্য যে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে, এতে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। নির্মাণের কয়েক বছর পার হলেও নেই কোনো বই। নিয়মিত খোলাও হয় না। স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়ে মাঝে মাঝে ঘরটি খোলেন। বিষয়টিতে নজর দেওয়া প্রয়োজন কর্তৃপক্ষের।
পাঠাগার নির্মাণ কমিটির সভাপতি ও গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইউসুফ আলী বলেন, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণ করা হয়। ঘরটি নির্মাণের জন্য ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বই কেনার জন্য কোন বরাদ্দ ছিল না। তারপরও বাড়িতে আমার ব্যক্তিগত কিছু বই ছিল, সেগুলো এখানে রেখেছি। পাঠাগার পরিচালনার লোকবলও নেই।
গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম টিপু বলেন, পাঠাগারটি মাঝেমধ্যে খোলা হয়। একেবারে যে বন্ধ থাকে তা না। এখানে বই থাকলে মানুষজন পড়তে আসত। বই নাই তাই পাঠাগারটি খোলার জন্য লোক নাই।
জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। শিগগির সেখানে বইয়ের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারে।