মনিরুজ্জামান বাবলু, চাঁদপুর
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:২৪ পিএম
চাঁদপুরে মৎস্য অবতণ কেন্দ্রে ইলিশ মাছ কিনছেন এক ক্রেতা। প্রবা ফটো
ইলিশের দাম বাড়ানো নিয়ে অজুহাতের শেষ নেই ব্যবসায়ীদের। চাহিদা বেশি সরবরাহ কম, তাই প্রতি বছর দাম বাড়ছে। গেল বছরের তুলনায় এবারও প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। ইলিশের দাম নির্ধারণে নেই কোনো মনিটরিং টিম। চাঁদপুর জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলছেন, রুই-কাতলাসহ ৩৯টি পণ্যের দাম নির্ধারণে বা মনিটরিংয়ের কাজ করে থাকেন তারা। ইলিশের দাম নিয়ে কোনো কাজ করেন না বলে জানান তিনি।
এদিকে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবু কাউসার দিদার বলছেন, চাঁদপুর নৌ-অঞ্চলের কিছু জায়গায় ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। আবার কিছু স্থানে এবং পার্শ্ববর্তী উপকূলে জেলেদের জালে ইলিশের পর্যাপ্ত দেখা মিলছে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এবং অক্টোবর ও নভেম্বরে ইলিশের দেখা মিলবে বেশি।
তিনি আরও জানান, নদীতে স্রোতের পরিমাণ বাড়লে, বৃষ্টিপাত হলেই পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা মিলবে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা যেভাবে ইলিশ পাচ্ছে না বা জোগান স্বল্প বলে দাবি করছেন, তা মানতে নারাজ এই মৎস্য গবেষক। বুধবার চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ টাকা। আর এক কেজির ওপরে হলে ১৮৫০ টাকা। এক কেজির নিচে ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গত বছর এই ঘাটে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ১৫০০-১৪০০ টাকা। আর এক কেজির ওপর হলে ১৬০০/১৭০০ টাকা। এক কেজির নিচে ১১০০/১২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। চাঁদপুর মাছঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, অক্টোবরে মা ইলিশ রক্ষার অভিযান, পরবর্তীকালে জাটকা সংরক্ষণ অভিযানগুলো সফল হলে ইলিশের এই স্বল্পতা কেটে উঠবে। প্রতিবছর ঘাটে মাছ আমদানি হতো এক হাজার মণের ওপর। এবার এই মৌসুমে ঘাটে ২০০-৩০০ মণের বেশি মাছ আসছে না।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেড সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত বলেন, নদীতে ইলিশ পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তা দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়ে উঠছে না। এখানে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ইলিশের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার মাছ আনা হয়। মাছ ধরার ট্রলার, জেলে, জাল, তেল খরচ আরও বেড়েছে। এতে করে মাছের দাম কমানো সম্ভব হয়ে উঠছে না। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান বলছেন, প্রতিবছর ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছি। দাম নির্ধারণ আমাদের কাজের মধ্যে পড়ে না। এটি জেলা মার্কেটিং বিভাগ দেখবে।