নুপা আলম, কক্সবাজার
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৫:৫৫ পিএম
কক্সবাজার শহরের ফিশারি ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশ কেনাবেচায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। প্রবা ফটো
সাগর থেকে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ নিয়ে কক্সবাজার শহরের ফিশারি ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসছে ট্রলার। কিন্তু রেকর্ড সংখ্যক ইলিশ এলেও দাম বেশি। কক্সবাজার জেলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম রাব্বানী জানিয়েছেন, কক্সবাজারে সমুদ্রের ইলিশ আহরণের ২০২৩ সালের রেকর্ড ভেঙেছে। ২০২৩ সালে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ আহরণ হয়েছিল ৬৫৯ টন। আর এ বছর আগস্টে আহরণ হয়েছে ৭০৮ টনের চেয়ে বেশি। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ টন বেশি। তবে ইলিশের দাম অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি।
কক্সবাজার ফিশারি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার সকালে সাগর থেকে ঘাটে এসেছে ১৫টির বেশি ট্রলার। যেখানে অন্যান্য মাছের সঙ্গে কম করে হলেও ২০ হাজার ইলিশ এসেছে বলে জানিয়েছেন মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে, ১ কেজি ওজনের ইলিশ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার টাকায়। কেজির নিচে হলে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হয়।
কক্সবাজার শহরের মৎস্য ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ ধরলে মাছের দাম হয়ে যায় আকাশচুম্বী। এসব মাছ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইলিশ কেনার প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাই দাম বাড়ছে। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কক্সবাজার ফিশারি ঘাটে ইলিশ কিনে ব্যবসায়ীরা ট্রাকে বোঝাই করে সরবরাহ করছেন ঢাকা, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
মৎস্য ঐক্য সমবায় সমিতির সভাপতি ট্রলার মালিক ওসমান গণি জানান, ইলিশ ধরতে কোনো কোনো ট্রলারের ৯-১২ দিন সাগরে থাকতে হয়। এতে খরচ, ইলিশের পরিমাণ এবং বাজারের চাহিদার ওপর দাম কমবেশি হয়। যেসব ট্রলার ঘাটে ফিরেছে তাতে যে ইলিশÑ তার চেয়ে বেশি চাহিদা থাকায় দাম বেশি হচ্ছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ইলিশের চাহিদা সব সময় থাকে। একই সঙ্গে ঘাটে সকল ট্রলার ভেড়ানো হয় না। কক্সবাজারের ঘাটে ২ হাজারের বেশি ট্রলার থাকলেও মূলত প্রতিদিন ট্রলার আসে গড়ে ২০-২৫টি। মালিকরা কৌশলগত কারণে ভিন্ন ভিন্ন দিনে ট্রলার ঘাটে আনে। আবার ঢাকা, চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন অনেকেই। ট্রলার থেকে মাছ কিনে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে দাবি তাদের।