গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:০৪ পিএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৩০ পিএম
গোপালগঞ্জে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে ‘আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের’ হামলায় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদার নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, তার স্ত্রী গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রওশন আরা রত্না ও তাদের কলেজ পড়ুয়া ছেলে রাফনান আদিত রায়ানসহ বিএনপির অন্তত ৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ১০টি গাড়ি।
এ ছাড়াও সময় টিভির ক্যামেরা পার্সন এইচ এম মানিককে বেধড়ক পিটিয়ে আহত ও তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতীর একটি সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনিচুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত দিদারের বাড়ি ঢাকার উত্তর যাত্রাবাড়ীতে। তিনি ক্রিকেটের আম্পায়ার ছিলেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি নাসির আহমেদ মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাহমুদ খান মুরাদ, জেলা যুবদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক রাজু বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির লিল্টু মুন্সি, ঢাকার মতিঝিলের স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা বাদশা মিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিশান। বাকি আহতদের নাম পরিচয় তাতক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহতদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সন্ধ্যায় গুরুতর আহত অবস্থায় এসএম জিলানীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিক উজ্জামান জানান, ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের গাড়িবহর নিয়ে টুঙ্গিপাড়ার জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী। গাড়িবহরটি ঘোনাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের একদল সশস্ত্র লোক গাড়ির গতিরোধ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় এসএম জিলানীর গাড়িসহ অন্তত ৮ থেকে ১০টি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা।
স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদারের মরদেহ। প্রবা ফটো
এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা সড়কের পাশে থাকা গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিলে পিছু হটে যায় তারা। কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা মাইকিং করে সংগঠিত হয়ে আবারও হামলা চালিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে এসএম জিলানীসহ অন্তত ৩৫ জনকে রক্তাক্ত জখম করে। পরে দিদারের মৃত্যু হলে দিদারের লাশ অজ্ঞাত স্থানে রাখে এবং পরে রাত সাতটার দিকে ঢাকা খুলনা মহাসড়কের চরপাথালিয়া নামক স্থানে ফেলে রেখে যায়।
বিএনপি'র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের গাড়িবহরে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শওকত আলী দিদারকে হত্যা এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানীসহ দলীয় নেতাকর্মীদের আহত করার ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় সেখানে পুলিশ দেখা না গেলেও ঘটনাস্থল থেকে বেশ খানিক দূরে পুলিশের অবস্থান দেখা যায়। হামলার বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ আনিচুর রহমান বলেন, একবার শুনেছি বিএনপি হামলা করেছে আর একবার শুনেছি আওয়ামী লীগ করেছে। ঘটনার সময় আমরা ছিলাম না তাই ঘটনার বিষয় তেমন জানা নেই। ওই সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সন্ধ্যার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এলাকা এখন শান্ত রয়েছে।