তুরাগ নদ
গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:০২ পিএম
তুরাগ নদে অতি মাত্রায় দেখা মিলছে সাকার ফিশের। প্রবা ফটো
দখল, দূষণ ও শিল্পকারখানার তরল বর্জ্যের কারণে গাজীপুরের তুরাগ নদে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে অনেক আগেই। নদে বর্ষা মৌসুমে দেশীয় মাছের দেখা মিললেও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাক্ষুসে সাকার ফিশ। জাল ফেললেই উঠে আসছে এই সাকার ফিশ। অনেক সময় হাত দিয়েও মাছটি ধরা যাচ্ছে।
সাকার মাছ অন্য দেশি মাছের খাবার খেয়ে ফেলে এবং আবাসস্থল দখল করে। মানুষ এ মাছ না খাওয়ায় তারা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং যেকোনো পরিবেশে টিকে থাকে। আগে এটি বুড়িগঙ্গা নদীতে থাকলেও নতুন করে তুরাগ নদে গাজীপুর অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। মাছ ধরে জীবিকা চালানো জেলে আর নদীকেন্দ্রিক মানুষের জন্য এখন এক অভিশাপের নাম ধনীর ঘরের শোভাবর্ধক বিলাসী মাছ সাকার ফিশ।
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে মহানগরীর তুরাগপাড়ের কড্ডা বাজার, ইসলামপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় শিশুরা এসব সাকার ফিশ খেলার ছলে কিংবা বিক্রির উদ্দেশ্যে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকার লোকজন এটিকে রোহিঙ্গা ফিশ বলে সম্মোধন করছে।
মাছ ধরতে আসা ডন মিয়া বলেন, তাদের গ্রামের শতাধিক পরিবার মাছ ধরে জীবিকা চালাত, এখন হাতে গোনা কয়েকজন ধরে, তা-ও মাছ নেই। রোহিঙ্গা মাছ (সাকার ফিশ) সব মাছ খেয়ে ফেলছে। যাও দুই-চারটা আছে সেগুলোও ধরা যায় না অতিরিক্ত এই মাছের কারণে।
কড্ডা বাজারের মাঝি হালিম মিয়া বলেন, ‘আগে নদে প্রচুর মাছ ধরতাম। কারখানার ময়লা আর বর্জ্যের কারণে তুরাগের পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। নদে আগের মতো আর মাছ নাই। কিন্তু দুই বছর ধরে নদে জাল ফালানোর পর রোহিঙ্গা মাছ (সাকার ফিশ) উঠছে।’
ইসলামপুর এলকার আসলাম হোসেন বলেন, মাছ ধরতে গেলে যখনই জাল ফেলি মাছের সঙ্গে সাকার ফিশও ওঠে। পরে সেগুলো আবার নদেই ফেলে দিয়ে আসি। অনেকেই বলে এটি খাওয়া যায় আবার অনেকে বলে এটি খাওয়া যায় না বিষাক্ত। দেখতেও কেমন ভয়ংকর, এগুলো ধ্বংস করার উপায় বের করতে হবে।
গাজীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, বুড়িগঙ্গা তো তুরাগ নদের সঙ্গে কানেক্টেড। বুড়িগঙ্গাতে প্রচুর সাকার ফিশ রয়েছে। মাছ তো পানির সঙ্গে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়। তুরাগে সাকার ফিশ বুড়িগঙ্গা থেকে আসতে পারে। সাকার ফিশ সাধারণ মাছের খাবারগুলো খেয়ে ফেলে। এতে সাধারণ মাছের খাদ্যসংকট দেখা দেয়। যার কারণে দেশীয় মাছের দেখা পাওয়া যায় না। তুরাগের পানি দূষিত হয়ে অন্য মাছ টিকে না থাকলেও সাকার ফিশ টিকে থাকবে এবং বংশবৃদ্ধি করবে।