× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাউজানে ফজলে করিম চৌধুরীর অপরাধনামা

এস এম রানা, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:২৯ পিএম

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:৩৯ পিএম

ফজলে করিম চৌধুরী

ফজলে করিম চৌধুরী

গণ-অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন রাউজানের (চট্টগ্রাম-৬) সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ও রাউজানে একাধিক মামলাও হয়েছে। এতদিন আত্মগোপনে থাকার পর ভারতে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুই সঙ্গীসহ বিজিবি সদস্যদের হাতে ধরা পড়েছেন বহুল আলোচিত এই সাবেক এমপি।

আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর সময় আটক করা হয়েছে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে। আটক অন্য দুজন হলেনÑ আখাউড়ার নূরপুরের সাবেক ইউপি সদস্য মো. হান্নান মিয়া এবং আখাউড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য মো. নাঈম চৌধুরী।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। এখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনÑ কোনোকিছুতেই বিরোধী দলকে মাঠে দাঁড়ানোর কোনোরকম সুযোগই দেননি তিনি। ১৬ বছর ধরে রাউজানে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়নি একটিও। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে ‘সিলেকশন’ পদ্ধতি চালু করেছিলেন এ বি এম ফজলে করিম ওরফে জুনু। ওই এলাকায় তার কথাই ছিল শেষ কথা। তিনি যাকে মনোনয়ন দিতেন, তিনিই জয়ী হতেন। এটার আরেক নামকরণ হয়েছে ‘জুনু মডেল’। এমনকি ফজলে করিমের দাপট থেকে মুক্ত ছিলেন না তার মতের বিপক্ষে থাকা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাও। গতকাল তার আটকের খবর জানার পর রাউজানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ হয়েছে। একাধিক সমাবেশও হয়েছে। 


ফজলে করিমের অপরাধনামা 

ফজলে করিমের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন রাউজানের সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার বাবুল। সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনালাপের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে সাবেক এমপির অপকর্মের বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। অডিওতে বাবুলকে বলতে শোনা যায়, ‘ফেরাউন গেছে, রাউজান মুক্ত হয়েছে। পিংক সিটিতে আমার আট গণ্ডা জমি দখল করেছে।’ এ ছাড়াও বাবুলের অভিযোগ, ফজলে করিম একজন নারীকে ধর্ষণ করেছেন। তার গালাগালি শোনার পর একজন প্রকৌশলী স্ট্রোক করে মারা গেছেন। ফজলে করিম বাগানবাড়ির জন্য ২০ কানি জমি কিনে বিক্রেতাদের কোনো টাকা দেননি। 

আরও জানা যায়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসা থেকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছিল ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ রাতে। মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে। সেই ঘটনার ৭ বছর পর চকবাজার থানায় মামলা করেন নুরুর স্ত্রী সুমি আক্তার। বাদীর দাবি, ফজলে করিমের নির্দেশে নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক জাবেদ ও ফজলে করিমের ক্যাডার বাহিনী রাতে ঘুম থেকে নুরুকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এতকাল আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় তিনি কোথাও ন্যায়বিচার চাইতে পারেননি। এখন তিনি ন্যায়বিচার চান। 

একইভাবে মুনিরীয়া যুব তাবলীগের কার্যালয় ভাঙচুর এবং সম্পদ লুটের অভিযোগে মামলা করেছেন দলইনগর-নোয়াজিশপুর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ আলাউদ্দিন। ২০১৯ সালে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় রাউজান থানায় মামলা করেন ফজলে করিম এবং তার ছেলে ফারাজ করিমসহ ৬৮ জনের বিরুদ্ধে। বিলম্বে মামলার কারণ ব্যাখ্যা করে বাদী বলেন, ‘এতদিন আমাদের এলাকায় থাকতে দেওয়া হয়নি। এখন এলাকায় ফিরে মামলা করেছি।’ 

আরেকটি মামলা করেছেন পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সিরাজদৌল্লাহ। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলাটি হয়। এজাহার মতে, ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ফজলে করিমের নির্দেশে বাদীকে অপহরণ এবং বাড়ি ভাঙচুর হয়। তৃতীয় মামলাটি দায়ের করেন মুনিরিয়া যুব তাবলিগ কমিটির ফকিরটিলা শাখার সহসভাপতি মো. জোহেল উদ্দিন। এভাবে ১০টি মামলা হয়েছে। 

গুমে জড়িত থাকার অভিযোগ 

বাগোয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আবু জাফরকে গুমের অভিযোগও ওঠে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে। ২০১০ সালের ২৭ মার্চ খুলশী থানার ভূঁইয়া গলি থেকে জাফরকে তুলে নেওয়া হয়। ১৪ বছরে তার সন্ধান মেলেনি। এই গুমের ঘটনায় ২০২২ সালে লন্ডনভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমে সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে জড়িত হিসেবে ফজলে করিমের নাম শোনা গিয়েছিল। যার ভিত্তিতে ২৯ আগস্ট বাবার সন্ধান চেয়ে চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করেন জাফর চেয়ারম্যানের ছেলে জিসানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘টানা ১৪ বছর বাবার পথ চেয়ে বসে আছি। ছোট ভাই জিয়ান কখনও আব্বু ডাকতে পারেনি। তার জন্মের আগেই বাবাকে গুম করা হয়েছিল।’ গুমের ঘটনায় ফজলে করিমকে দায়ী করে জিসানুর বলেন, ‘ভিডিও বার্তায় লে. কর্নেল হাসিনুর রহমানের কণ্ঠে শোনা গেছে, ফজলে করিমের নির্দেশে বাবাকে গুমের পর খুন করতে হাসিনুর রহমানকে বলা হয়। কিন্তু তিনি (হাসিনুর) খুন করতে রাজি হননি।’ এই গুমের সঙ্গে সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানও জড়িত বলে অভিযোগ করেন জিসানুর। 

ফিরছেন নির্বাসিতরা

সরকার পতনের পর এলাকায় ফিরেছেন বিএনপি নেতা গিয়াস কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকার এবং তাদের অনুসারীরা। ফিরছেন আওয়ামী লীগ ও মুনিরিয়া যুব তাবলিগ কমিটির নেতারাও। এ ছাড়া ১৫ বছর পর কাজে যোগ দিয়েছেন রাউজান সরকারি কলেজের ১০ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারী। ৬ আগস্ট তারা যোগদান করেছেন বলে নিশ্চিত করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিম নাওয়াজ চৌধুরী। 

এলাকায় ফিরে আসা মুনিরিয়া যুব তাবলিগের প্রচার সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সাড়ে পাঁচ বছর বাড়িতে যেতে পারিনি। বাবার জানাজা পড়তে পারিনি। ফজলে করিম ২০১৯ সালে সংগঠন থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা চেয়েছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পশ্চিম গুজরা কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার মূল প্রবেশপথ বন্ধ করে সীমানা প্রাচীর তুলে দেন। ৪০টি ইবাদতখানাও মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেন।’ 

রাউজান ইউনিয়নের বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, ‘রাউজানে গত ১৬ বছর ধরে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখিনি। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-সদস্য, পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলর এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানসহ সবাইকে ‘মনোনয়ন’ দিয়েছেন ফজলে করিম। তিনি যাদের মনোনয়ন ফরম জমার অনুমতি দিতেন, তারাই শুধু মনোনয়ন ফরম দাখিল করতেন। অন্য প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন দাখিলকারী প্রার্থীকেই বিজয়ী ঘোষণা করত। আমার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে ২০২০ সালে। ভোটার হওয়ার পরও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা