লক্ষ্মীপুর ও কমলনগর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:১৯ পিএম
হাইকোর্টের নির্দেশে ভুলুয়া নদীর অবৈধ বাঁধ অপসারণ শুরু করেছে প্রশাসন। স্থানীয় হাজারো জনতা এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার রামগতির আযাদনগর এলাকার স্টিল ব্রিজ এলাকা।
লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলা দিয়ে বয়ে চলা ভুলুয়া নদীতে থাকা অবৈধ বাঁধ অপসারণে হাইকোর্টের নির্দেশনায় কার্যক্রম শুরু করছেন প্রশাসন। প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রামগতি উপজেলার আযাদনগর এলাকার স্টিল ব্রিজ নামক স্থানে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবী আসেন। তারা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভুলুয়া নদীর অবৈধ বাঁধ অপসারণে অংশ নেন।
হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আব্দুল্লাহ বিন শফিকের নেতৃত্বে বাঁধ অপসারণ করা হয়। রিটকারী আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার ভুলুয়া নদী সংশ্লিষ্ট এলাকায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও পরে বন্যার পানিতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ দুই মাস ধরে দুর্ভোগে রয়েছে। ধীর গতিতে পানি কমলেও কাটছে না মানুষের দুর্ভোগ। অধিকাংশ মানুষের বাড়িতে কোমর পানি। ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মাটির চুলায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অধিকাংশ মানুষ শুকনো খাবার খেয়েই জীবন যাপন করে আসছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর সাত্তার পালোয়ান মানবসৃষ্ট বন্যারোধে ভুলুয়া নদীসহ লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর সকল খাল থেকে অবৈধ বাঁধ অপসারণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরের দিন ভুলুয়া নদীসহ সকল খাল দখলে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এতে ভুলুয়া নদীতে অবৈধ দখলের ঘটনা তদন্ত ও বাঁধ অপসারণে সময় বেঁধে আদেশ দেওয়া হয়। আদেশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দখলের ঘটনায় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তপূর্বক ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে দখল উচ্ছেদ করে ভুলুয়া নদীর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করে হাইকোর্টকে প্রতিবেদন দিতে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাত্তার পালোয়ান বলেন, প্রায় দুই মাস ভুলুয়া নদী এলাকায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। বন্যার পানি কমবে কি না, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এজন্য প্রথমেই ভুলুয়া নদী থেকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। তদন্ত শেষে নদী থেকে অবৈধ বাঁধ অপসারণের জন্য ১০ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমে হাজারো মানুষ অবৈধ বাঁধ অপসারণে কমলনগর থেকে রামগতি এসে কাজ করছে। মানুষজন পানিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। ভুলুয়া নদী খননে একটি প্রকল্প নেওয়ার জন সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আবদুল্লাহ বিন শফিক বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশে ভুলুয়া নদীতে থাকা অবৈধ বাঁধসহ পানি প্রবাহে বাঁধসৃষ্টিকারী বস্তু অপসারণে এসেছি। আমাদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় কাজ করতে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। এ এলাকার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবৈধ বাঁধ অপসারণ বড় ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, ভুলুয়া নদী থেকে অবৈধ বাঁধ অপসারণে হাইকোর্টের নির্দেশনা হাতে পেয়েছি। এর আগে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে নিদের্শনার বিষয়টি জানতে পেরে শুরু করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভেয়াররা টিম নিয়ে কাজ করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার মধ্য দিয়ে মেঘনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ভুলুয়া নদীর লক্ষ্মীপুর অংশের দৈর্ঘ্য ৭৬ কিলোমিটার। জলাধারটি আগে গড়ে ৩০০ মিটার চওড়া হলেও এখন কমে গড়ে ১০০ মিটার হয়ে গেছে।