ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:১৬ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:২৯ পিএম
শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনিতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকার এক দিন পর আবারও শুরু হয়েছে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম।
এর আগে গত বুধবার শ্রমিকরা ৫ দফা দাবিতে খনির মূল ফটক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করলে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (জিটিসি)। পরে ওই দিন রাতেই দু’পক্ষের বৈঠকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে শ্রমিকরা কাজে পুরোদমে যোগদান করলে আবারও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।
জানা গেছে, মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনির উৎপাদন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসি)-এর নিয়োগকৃত খনিশ্রমিকের সংখ্যা ৮৫০ জন। শ্রমিকরা বেশকিছু দাবি নিয়ে কিছুদিন থেকে বিভিন্নভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। তবুও কোনো সুফল না পেয়ে গত বুধবার শ্রমিকরা ৫ দফা দাবিতে খনির মূল ফটক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাদের দাবিগুলো হলোÑ আন্তর্জাতিক আইন মেনে খনিশ্রমিকদের মাসিক বেতন-ভাতা, উৎসব বোনাস ও ছুটি, চুক্তির শর্ত মোতাবেক বার্ষিক ৫% হারে বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতি, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের অনতিবিলম্বে নিঃশর্তভাবে নিয়োগ প্রদান করা এবং মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীনভাবে কোনো শ্রমিককে চাকরিচ্যুত না করা, সরকারঘোষিত ছুটি, যান্ত্রিকত্রুটি এবং জিটিসি কর্তৃপক্ষ ঘোষিত ছুটিতে বেতন-ভাতা কর্তন করা যাবে না এবং কোনো শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করতে হলে তিন মাসের বেতন প্রদান করা।
এদিকে গত বুধবার সকাল থেকে জিটিসি পাথর উত্তোলন কাজ বন্ধ করায় আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং ক্ষোভ প্রকাশসহ আন্দোলন জোরদার করেন শ্রমিকরা।
এ ঘটনায় ওই দিন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মধ্যপাড়া পাথরখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণেই পাথর উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাদের ৫ দফা দাবির বিষয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকনেতারাও এ আশ্বাসে সমর্থন দিয়েছেন এবং শ্রমিকরা কাজে যোগদান করলে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়।