গাইবান্ধা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:০৬ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:০৬ পিএম
গাইবান্ধার সাঘাটায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে পাঁচজনকে আটকের পর দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সাঘাটার ভরতখালী বাজারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে মৃত সোহরাব হোসেন আপেল ও শফিকুল ইসলামসহ ওইদিন আটক ৫ জনের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার মানববন্ধনে নিহত ও আহতদের স্বজন ছাড়াও বিভিন্ন পেশার মানু্ষ অংশ নেয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত সোমবার গভীর রাতে আটকের পর চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইটসহ ৫ জনকে বেদম প্রহার ও নির্যাতন করে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। তাদের নির্যাতনের কারণেই আপেল ও শফিকুলের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তারা।
মামলার বিষয়ে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) ইবনে মিজান জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার ৫ জনের বিরুদ্ধে সাঘাটা থানার এসআই দীপক কুমার রায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এই মামলা করেছেন। আসামিরা হলেনÑ সাঘাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট, গোবিন্দী বাঁশহাটি এলাকার সেরায়েত আলীর ছেলে শাহাদাৎ হোসেন পলাশ, উত্তর সাথালিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম রকি, গোবিন্দী এলাকার রোস্তম আলীর ছেলে সোহরাব হোসেন আপেল ও মালেক উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম। মৃত ব্যক্তির নামে মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মামলার চার্জশিটে তাদের নাম বাদ পড়বে’। মৃত ব্যক্তির নামে মামলা প্রসঙ্গে এই মামলার বাদী সাঘাটা থানার এসআই দীপক কুমার রায়ের দাবি, ওই দুই ব্যক্তির মৃত্যুর আগেই মঙ্গলবার সকালে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
আসামিদের মধ্যে আপেল ও শফিকুল যৌথ বাহিনীর হাতে আটকের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান। মঙ্গলবার দুপরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আপেলের মৃত্যু হয় এবং একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান শফিকুল। এদিকে আহত শাহাদাৎ হোসেন পলাশকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন সুইট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া রিয়াজুল রকি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পুলিশের করা মামলায় চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইটকে জামিন দিয়েছেন আদালত। গতকাল বিকালে সাঘাটার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক আল বেরুনী মীর তার আবেদন মঞ্জুর করেন। জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, সাঘাটা থানার কোর্ট জিআরও রবিউল ইসলাম।