কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:০২ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:০৮ পিএম
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বসতঘর। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের
রামগতি-কমলনগর উপজেলায় এবার বন্যায় ৭ হাজার ৬৭২ বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘর
মেরামত করতে ৪০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় নির্ধারণ করেছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন
কার্যালয়। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইউনুস মিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি
বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের তালিকা তৈরি করে
ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।
রামগতি-কমলনগর
উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কমলনগর উপজেলায় ৬ হাজার ৩৮০টি বসতঘর মেরামত করতে ব্যয় হবে প্রায় ৩৫ কোটি ৭৪ হাজার টাকা। আর রামগতি উপজেলার ১ হাজার ২৯২টি বসতঘর মেরামত করতে ব্যয় হবে প্রায় ৫ কোটি ৪৬
লাখ টাকা। দুই উপজেলার মোট ৭ হাজার ৬৭২ বসতঘর
মেরামত করতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে
৪০ কোটি ৫
লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
এসব ঘর
মেরামত করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পরিবারগুলো ঘর
মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে জানিয়ে তারা বলেন, কিছু কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমলেও অনেক নিম্নাঞ্চলের
বাড়িঘর এখনও ডুবে আছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এদিকে কাঁচা ঘরের ভিটির
মাটি সরে গেলেও নতুন মাটি দেওয়ার মতো উপযুক্ত পরিবেশ নেই। তা ছাড়া ঘর মেরামতের
অর্থও নেই অনেকের কাছে।
রামগতি
উপজেলার চরপোড়াগাছা, চরবাদাম, চরআলগী, কমলনগরের চরকাদিরা ও
তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে এখনও মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। এসব এলাকায় এখনও হাঁটুসমান
পানি। ঘরের খুঁটিগুলো নড়বড়ে হয়ে গেছে, টিনগুলো নষ্ট হচ্ছে। এ
অবস্থায় বেশিরভাগ পরিবার এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে।
রামগতি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, উপজেলায় অনেক মানুষ এখনও পানিবন্দি। এর মধ্যে এখনও
আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ। একই মন্তব্য করে কমলনগরের ইউএনও সুচিত্র রঞ্জন দাস
বলেন, বন্যায় তার উপজেলায় ব্যাপক
ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের
মধ্যে সুষমভাবে বণ্টন করা হবে।