উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:২২ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৫২ পিএম
সুমন মৃধা। প্রবা ফটো
বরিশালের
উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও শ্রমিক লীগের প্রভাবশালী
নেতা সুমন মৃধার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)
কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে স্থানীয় জনতা। চাঁদাবাজি, জমি দখল, হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানিসহ
ইউপি সদস্য হিসেবে ও ঠিকাদারির মাধ্যমে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
ইতোমধ্যে সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি)
তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।
অভিযোগ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিকারপুর ইউনিয়নের এই প্রভাবশালী ইউপি সদস্য ছোটবেলা
থেকেই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের শিকারপুর বাসস্ট্যান্ডের পরিবহন কাউন্টারের দিনমজুর ছিলেন।
পরে তিনি শ্রমিক লীগে যোগদান করে শিকারপুর হাটের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত
চাঁদা আদায় এবং দোকানপাট দখল করে অবৈধভাবে অর্থ-সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। অবৈধ
টাকায় তিনি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জয়শ্রী মৌজায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে বহুতল
ভবন নির্মাণ করেছেন। এমনকি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
সুমন
ক্ষমতার দাপটে শিকারপুর বন্দরে সরকারি জমি দখল করে একাধিক পাকা দোকান নির্মাণ করে ভাড়া
দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বললে হামলা-মামলা করে হয়রানি করার শত অভিযোগ রয়েছে।
তিনি তার বাহিনী দিয়ে শিকারপুর বন্দরে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ একাধিক ব্যবসায়ীর দোকান
দখল করে পরে অর্থের বিনিময়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
এই শ্রমিক
লীগ নেতা শিকারপুর বাজার পশুর হাটের স্টলঘরে প্রথমে আওয়ামী লীগের অফিস হিসেবে সাইনবোর্ড
লাগিয়ে দখল করেন, পরে সুযোগমতো এই ঘর স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। এসব
বিষয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন।
শিকারপুর
বাজারের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী মহাসিন বলেন, ‘সামান্য দিনমজুর থেকে তিনি কী করে কোটি
টাকার সম্পত্তির মালিক হলেন, তার বাবা ছিলেন ভূমিহীন ও সামান্য মোটরশ্রমিক। কী করে
তিনি কোটি টাকার মালিক হলেন বিষয়টি রহস্যজনক।’
সুমনের
অবৈধ অর্থের প্রভাবে অন্য ইউপি সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদের কোনো কাজ পেতেন না বলে অভিযোগ
অন্য ইউপি সদস্যদের। স্থানীয় ব্যবসায়ী জালিছ মাহমুদ বলেন, ‘আমি সুমনকে ছোটবেলা থেকে
শিকারপুর দূরপাল্লার বাস কাউন্টারের দিনমজুরি করতে দেখেছি। সেখান থেকে শুধু শ্রমিক
লীগের নেতা হয়ে চাঁদা ও দখলবাজি করে নিজ এলাকায় ও বরিশালের কাশিপুরে কয়েক কোটি টাকার
জমির মালিক হয়েছেন।’
এসব
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য সুমন মৃধা বলেন, ‘আমি বিভিন্ন সময়ে হাটের ইজারাদার ছিলাম
ও শ্রমিক নেতা ছিলাম। সেখান থেকে জনগণের ভালোবাসায় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। একই
সঙ্গে বিভিন্ন ঠিকাদারি করে আমি সম্পদের মালিক হয়েছি।’
অভিযোগপত্রের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’