চাঁদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:২৩ পিএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:২৮ পিএম
ইলিশের দাম বাড়ানো নিয়ে অযুহাতের শেষ নেই ব্যবসায়ীদের। চাহিদা বেশি সরবরাহ কম, তাই প্রতি বছর দাম বাড়ছে। গেল বছরের তুলনায় এবারও প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। তবে এই দাম নির্ধারণকরণে নেই কোনো মনিটরিং টিম।
চাঁদপুর জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, রুই কাতলাসহ ৩৯টি পণ্যের দাম নির্ধারণে বা মনিটরিংয়ের কাজ করে থাকেন তারা। তবে ইলিশের দাম নিয়ে তারা কোনো কাজ করেন না।
এদিকে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবদুল কাদির বলেন, চাঁদপুর নৌ-অঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। আবার কিছু কিছু স্থানে এবং পার্শ্ববর্তী উপকূলে জেলেদের জালে ইলিশের পর্যাপ্ত দেখা মিলছে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে অক্টোবর ও নভেম্বরে ইলিশের দেখা মিলবে বেশি।
তিনি আরও বলেন, নদীতে স্রোতের পরিমাণ বাড়লে এবং বৃষ্টিপাত হলেই পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা মিলবে। তবে জেলে ও ব্যবসায়ীরা ইলিশ পাচ্ছে না বা যোগান স্বল্প বলে দাবি করছেন, তা মানতে নারাজ এই মৎস্য গবেষক।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকা। আর ১ কেজির বেশি ওজনের বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। এক কেজির নিচেরগুলো ১ হাজার ৫০০ টাকার ধরে বিক্রি করা হচ্ছে। গত বছর এই মাছঘাটে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। আর ১ কেজির ওপরে হলে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা। এক কেজির নিচে ১১০০-১২০০ টাকা ধরে বিক্রি হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর মাছ ঘাটের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, অক্টোবরে মা ইলিশ রক্ষার অভিযান, পরবর্তীতে জাটকা সংরক্ষণ অভিযানগুলো সফল হলে ইলিশের এই স্বল্পতা কেটে উঠবে। প্রতিবছর ঘাটে মাছ আমদানি হতো ১ হাজার মণের উপরে। এবার এই মৌসুমে ঘাটে ২০০ থেকে ৩০০ মণের বেশি মাছ আসছে না।
শহরের বাসিন্দা মাঈনুল ইসলাম মানিক ও জাকির হোসেন জানান, ইলিশ মাছের চেয়ে ক্রেতা বেশি। নদীর যেই নাব্যতার কারণে আগের মতো ইলিশ মিলছে না।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেড সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত বলেন, ‘নদীতে ইলিশ পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তা দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়ে উঠছে না। এখানে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ইলিশের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার মাছ আনা হয়। মাছ ধরার ট্রলার, জেলে, জাল, তেল খরচ আরও বেড়েছে। এতে করে মাছের দাম কমানো সম্ভব হয়ে উঠছে না।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ‘প্রতিবছর ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছি। এখন দাম নির্ধারণ বা দাম বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের কোনো কাজের মধ্যে পড়ে না। এটি জেলা মার্কেটিং বিভাগ দেখবে।’