গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:২২ পিএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৫৪ পিএম
আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কারাখানা থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। প্রবা ফটো
গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকায় বিগবস করপোরেশন লিমিটেড কারখানায় বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের দেওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারখানার ওয়্যার হাউসে শ্রমিকরা আগুন দেন বলে জানায় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর এখন ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। কারখানায় প্রচুর ধোঁয়া উড়ছে। ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হতে সারা রাত লেগে যেতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সকালে বকেয়া বেতনের দাবিতে বেক্সিমকো কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সড়ক অবরোধ করে আশপাশের কিছু কারখানায় ভাঙচুরও চালান তারা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ শ্রমিক পাশের বিগবস কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দেওয়ার পর তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানার আশপাশে অবস্থান নেন।
এদিকে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়। পরে সেনাবাহিনী খবর দিয়ে তাদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
বিগবস কারখানার স্টোর কিপার ওয়াহেদ খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বেক্সিমকো কারখানার শ্রমিকরা বেতন পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা আমাদের কারখানাসহ কয়েকটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে শ্রমিকরা আমাদের কারখানার ওয়্যার হাউসে আগুন দেয়। সেখানে আমাদের মূল্যবান ফেব্রিক্স ছিল।’
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘কারখানায় আগুনের খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু শ্রমিকরা আমাদের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে আমরা সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারখানা থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছে। ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। শেষ হতে সারা রাত লেগে যাবে। ডাম্পিং শেষে তদন্তের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।’
কাশিমপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বেক্সিমকো গ্রুপের কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা অন্যান্য কারখানাও বন্ধ করতে বিভিন্ন কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সেখান থেকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক আগুন দিয়েছে।’