ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:১৮ পিএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:০৫ পিএম
ময়মনসিংহের
ত্রিশালে অপরিকল্পিত মাছের খামারের কারণে বছরের পর বছর অনাবাদি থাকছে ২০০ একর জমি।
গত আট বছর ধরে এ অবস্থা চলছে। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য মঙ্গলবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভুক্তভোগীরা
এলাকায় মানববন্ধন করেছে।
উপজেলার
মঠবাড়ি ইউনিয়নের বাদামিয়া আইত্তাকুড়ি ও হিংরাকুড়ি বিলের পানি খিরু নদ দিয়ে নেমে যেত।
২০১৭ সালে বাদামিয়া এলাকায় অন্তত ১০০ একর জমিতে মাছের খামার করেন সাজ্জাদ হোসেন (লালন)
নামের এক ব্যক্তি। তিনি একই ইউনিয়নের খারহর গ্রামের বাসিন্দা।
সাবেক
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের ছেলের বন্ধু পরিচয় দিতেন সাজ্জাদ।
এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে লিজ নেওয়া ৭০ একর জমি ও নিজের কেনা জমিতে মাছের খামারটি করেন
সাজ্জাদ হোসেন। মাছের খামার করার কারণে বিল এলাকার পানি বের হতে না পারায় ২০০ একর জমি
অনাবাদি অবস্থায় রয়েছে। গত ৮ বছর ফসলি জমি অনাবাদি থাকায় প্রতিকার চেয়ে ২০১৭ সাল থেকে
প্রশাসনের কাছে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু মন্ত্রীর ছেলের বন্ধু হওয়ার কারণে প্রতিকার
মিলছে না।
মঙ্গলবার
দুপুর ১২টায় বাদামিয়া মোড় এলাকায় ভুক্তভোগী শতাধিক মানুষ মানববন্ধন করে। এ সময় সাজ্জাদ
হোসেন ও তার দোসরদের বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়। আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায়
শাহনেওয়াজ লিটনসহ অনেকে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, সাবেক মন্ত্রীর বন্ধু পরিচয়ে জমি
লিজ নিয়ে লিজের টাকাও দিতেন না সাজ্জাদ। টাকা চাইলে হুমকি, মামলা দিয়ে হয়রানি করার
ভয় দেখানো হয়।
ভুক্তভোগীরা
জানায়, অপরিকল্পিতভাবে মাছের খামার করার কারণে ২০০ একর জমি পানির নিচে থাকায় ফসল হচ্ছে
না। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আবেদন করার পর তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন পানি নিষ্কাশনে খাল
খননের পদক্ষেপ নিলেও পরে থেমে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সাল ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে
পানি নিষ্কাশনের পদক্ষেপ নিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করে ভুক্তভোগীরা। গত ৩০
আগস্ট পুনরায় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছে এলাকাবাসী।
সাবেক
মন্ত্রীর ছেলের প্রভাব দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পানি নিষ্কাশনের
জন্য খাল খননের চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়রা জমি না দেওয়ায় কাজ হয়নি। তারপরও প্রজেক্টে
একটি খননযন্ত্র রাখা হয়েছে, পানি ছাড়ার জায়গা দেখালে তারা ব্যবস্থা নেবেন।
উপজেলা
কৃষি অফিসার তানিয়া রহমান জানান, বিষয়টি শুনেছি। একটি তদন্ত কমিটি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে।
ত্রিশাল
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জুয়েল মাহমুদ বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের
সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।