কালিদাস রায়, নাটোর
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:১১ পিএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:০৪ পিএম
অকেজো হয়ে পড়ে আছে সড়কবাতি। নাটোরের বাগাতিপাড়ার শরীফপুর এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলাজুড়ে চার অর্থবছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা
ব্যয়ে গ্রামীণ সড়কগুলোতে বসানো হয়েছিল সৌরবাতি। সন্ধ্যা হলেই বসানো সৌরবিদ্যুতের প্যানেলের
সাহায্যে বাতি জ্বলে উঠত। সৌরবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে উঠত ঘুটঘুটে অন্ধকারে আচ্ছাদিত
গ্রামীণ সড়কগুলো। এতে চোর-ডাকাতের উৎপাত কমে গিয়েছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে
কিছুদিনের মধ্যেই এসব বাতি বিকল হয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে সড়কবাতিগুলো।
এখন শুধু খুঁটি আছে বাতি নেই, আর আলোও নেই। এতে সুফলবঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও সৌরবিদ্যুতের খুঁটি আছে,
প্যানেলও আছে। কিন্তু বাতি নেই। কোথাও বাতি থাকলেও প্যানেল গায়েব। কোথাও ব্যাটারি ও
লাইটহীন। ব্যাটারি বাক্সে বাসা বেঁধেছে পাখি। অবাধে চুরি হয়েছে এসব ব্যাটারি ও সোলার
প্যানেল। মেরামত তো দূরের কথা, এগুলোর খোঁজখবর রাখেননি কর্তৃপক্ষ। তিন বছর পর্যন্ত
দেখভালের কথা থাকলেও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেননি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থাপনের
এক দেড় বছরের মধ্যে সড়ক বাতিগুলো অকোজে হয়ে পড়ে বলে জানান স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির
আওতায় টিআর ও কাবিখা বরাদ্দের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৯ লাখ ২৬ হাজার ৭৭৭ টাকায় ব্যয়ে সড়কবাতি
বসানো হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৮টি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪১
লাখ ২৩ হাজার ৭৭৭ টাকা ব্যয়ে ৭৩টি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫০টি
এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৬ লাখ ৪৯ হজার টাকা ব্যয়ে ১০০টি সড়কবাতি বসানো হয়। প্রতিটি বাতি
স্থাপনে গড় ব্যয় ধরা হয় ৫৬ হাজার টাকা। বাতিগুলোর ১০ বছর আলো দেওয়ার কথা। কিন্তু মেয়াদ
পূর্ণ হওয়ার আগেই অধিকাংশই নষ্ট ও চুরি হয়ে গিয়েছে। ঠিক কতটি বাতি নষ্ট হয়েছে তারও
সঠিক তথ্য নেই দপ্তরে।
উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের চকমহাপুর এলাকার নাজিম উদ্দিন জানান, এই এলাকায়
বিভিন্ন মোড়ে সড়ক বাড়ি স্থাপন করা হয়। সড়ক বাতিগুলো স্থাপনের এক থেকে দেড় বছর পর নষ্ট
হয়ে যায়। কখনও কেই আর খোঁজখবর নিতে আসেনি। ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই অন্ধকারেই আচ্ছাদিত
পুরো এলাকা।
গালিমপুর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউন্নবী রেনু জানান, বছরের পর
বছর ধরে সড়ক বাতিগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অনেক চুরি হয়েছে। ফলে এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটতে
থাকে। বাতিগুলো মেরামত করে পুনরায় আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিমুল হক বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছর
থেকে প্রকল্পটি বন্ধ রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লাইটগুলো স্থাপন করা হয়েছিল
তাদের চুক্তির মেয়াদ তিন বছর শেষ হয়ে গেছে। চুক্তির মেয়াদের পর সৌরবাতিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ
ও মেরামতের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে
পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাইমেনা শারমীন জানান, উপজেলার কোন কোন স্থানের স্ট্রিট সোলার লাইটগুলো নষ্ট অবস্থায় আছে তা নির্ধারণ করে মেরামত করা যায় কি নাÑ এ বিষয়ে তিনি দেখবেন।